দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
শহীদুল ইসলাম শরীফ, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস যা সচরাচর মে দিবস নামে অভিহিত। প্রতি বছর পয়লা মে তারিখে বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়। এটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের উদ্যাপন দিবস। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্রমজীবী মানুষ এবং শ্রমিক সংগঠনসমূহ রাজপথে সংগঠিতভাবে মিছিল ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে। ভারত ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে পয়লা মে জাতীয় ছুটির দিন। আরো অনেক দেশে এটি বেসরকারিভাবে পালিত হয়। বাংলাদেশেও এটি পালিত হচ্ছে।
মে দিবসের সূচনা হয় ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে। তৎকালীন সময়ে শ্রমিকদের কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ছিল না, তাদের দিনে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হতো। এর প্রতিবাদে এবং ‘দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের সময়’ নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। ১ মে শিকাগোর হে মার্কেটে হাজার হাজার শ্রমিক সমবেত হন। ৪ মে পুলিশ এই আন্দোলনে গুলি চালালে অনেক শ্রমিক হতাহত হন এবং শ্রমিক নেতাদের গ্রেফতার করে ফাঁসি দেওয়া হয়। শ্রমিকদের এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পায় এবং ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে-কে 'আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস' হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৮৯০ সাল থেকে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
বাংলাদেশে মে দিবস একটি রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন। এ দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ বাণী প্রদান করেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাব, পল্টন ও বিভিন্ন শিল্প এলাকায় শ্রমিক সংগঠনগুলো বর্ণাঢ্য র্যালি, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের লাখ লাখ শ্রমিকের অধিকার রক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ন্যায্য মজুরি আদায়ের অঙ্গীকার নিয়ে দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে।
আজকের দিনে মে দিবস শুধুমাত্র একটি ছুটি বা স্মরণের দিন নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক স্থাপন এবং শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা রক্ষার প্রতীক। বর্তমানের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে শ্রমিকদের দক্ষ করে তোলা, ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা এবং আধুনিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন মে দিবসের মূল চ্যালেঞ্জ।
সারাদেশে নিয়ে আরও পড়ুন








