Home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


কুড়িগ্রাম জেলা রেজিষ্ট্রার অফিসে দুঃসাহসিক চুরি: একাধিক কক্ষে ভাঙচুর, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় প্রশ্ন

মোঃ আসাদুজ্জামান সরকার, জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম।

আপডেট: কিছুক্ষণ আগে

Facebook
Twitter

Article Image

কুড়িগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে গভীর রাতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় নিচতলা থেকে শুরু করে দোতলা ও তিনতলার একাধিক কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার সকালে অফিস খোলার পর একে একে সামনে আসে ভাঙচুরের ভয়াবহ চিত্র।

অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকেরুল হকের কক্ষের ড্রয়ারসহ তিনটি আলমারি ভেঙে তছনছ করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ফাইল খোয়া যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

টিসি সহকারী ইউনুস আলী জানান, তার কক্ষেও একইভাবে ভাঙচুর চালিয়ে ড্রয়ার ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং কাগজপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছড়িয়ে রাখা হয়েছে।

চুরির ঘটনাটি প্রথম দেখতে পান দপ্তর সহায়ক আবুল হোসেন, যিনি নৈশ প্রহরীর দায়িত্বেও ছিলেন। তিনি জানান, সন্ধ্যায় অফিসের লাইট জ্বালিয়ে খাবারের জন্য বাসায় যান। পরে ফিরে এসে দেখেন অফিসের গ্রিল ও তালা ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও রাতে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি। এমনকি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি বলেও জানা গেছে।

আরও বিস্ময়ের বিষয়, অফিসে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও তা পর্যালোচনায় ব্যর্থ হয়েছেন কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কীভাবে ফুটেজ বের করতে হয় সে বিষয়ে তাদের ধারণা নেই—যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে।

এদিকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা বলছেন, রেজিস্ট্রি অফিস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান, যেখানে সংরক্ষিত থাকে জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এসব নথি ক্ষতিগ্রস্ত বা চুরি হলে নাগরিকদের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বার্থও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

জেলা রেজিস্ট্রার মো. রুহুল কুদ্দুছ বলেন, “দুর্বৃত্তরা একাধিক কক্ষে প্রবেশ করলেও কোনো নথি, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ নিয়ে যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, টাকার খোঁজেই তারা প্রবেশ করেছিল। তবে অফিসে নগদ অর্থ না থাকায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।”


তবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন নিরাপত্তাহীনতা, ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে গাফিলতি এবং প্রযুক্তিগত অদক্ষতা—সব মিলিয়ে পুরো ঘটনাটি ঘিরে জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ ও প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত বিশ্লেষণ এবং আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে প্রকৃত রহস্য আড়ালেই থেকে যেতে পারে।



অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।

সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |

স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।