
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৯ বছরের এক শিশু গৃহপরিচারিকাকে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগে এক চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়। নির্যাতনের শিকার শিশু আয়েশা আক্তার (৯) বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সরাইল উপজেলার পাকশিমুল গ্রামের রাকিব মিয়ার মেয়ে আয়েশাকে প্রায় ৯ মাস আগে শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকার চিকিৎসক কে. এম. আব্দুল্লাহ আল নোমান ও তার স্ত্রী কিমিয়া সাদাত তোফার বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজে পাঠানো হয়। তবে গত তিন মাস ধরে শিশুটির সঙ্গে তার পরিবারের সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় ওই দম্পতি।
সম্প্রতি চিকিৎসক দম্পতি শিশুটির পরিবারকে জানায় যে, আয়েশা বাসা থেকে চুরির পর পালিয়ে গেছে। এই অভিযোগে গত ২৬ এপ্রিল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন ডা. নোমান। তবে বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে জিডির সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নেমে ওই বাসার পাশের একটি বাড়ি থেকে গুরুতর অসুস্থ ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় আয়েশাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
নির্যাতনের ভয়াবহতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির শরীরে একাধিক পুরনো ও নতুন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, গত নয় মাস ধরে শিশুটিকে নিয়মিত অমানুষিক নির্যাতন করা হতো। বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই চুরির নাটক সাজিয়ে তাকে নিখোঁজ বলে প্রচার করা হয়েছিল। বুধবার সন্ধ্যায় তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ডা. আব্দুল্লাহ আল নোমান নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, গত ২২ এপ্রিল তিনি বিদেশে প্রশিক্ষণে থাকাকালীন আয়েশা তাদের বাসা থেকে দুই ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকায় সন্তানদের দেখাশোনার জন্য আয়েশাকে রাখা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, "শিশুটির শরীরের জখম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের এমন আচরণ সমাজের নৈতিক অবক্ষয়েরই প্রতিফলন। শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।