দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
প্রতিবেদক: মোঃ খুরশেদুল হক, ফুলবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম।

কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে বারোমাসিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে জরুরি ও তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন শাখা। দীর্ঘদিন ধরে চলমান নদী ভাঙনের কারণে এলাকার বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়ায় স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মোঃ শামসুল হুদা বাবুল মাস্টার। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের অংশ হিসেবে প্রায় ৩০০টি জিও ব্যাগে বালু ভরে নদীর তীর রক্ষায় অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ভাঙনপ্রবণ এলাকায় দ্রুত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কাজে অংশগ্রহণ করেন। অনেকেই স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সহযোগিতা করেন, যা এলাকাবাসীর ঐক্য ও সচেতনতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুম এলেই বারোমাসিয়া নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে এবং অনেকেই ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কৃষকদের ফসলি জমি, গাছপালা ও জীবিকার প্রধান উৎসগুলোও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জিও ব্যাগ স্থাপনের এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি এনে দিয়েছে এবং নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নদী ভাঙন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল সমস্যা। এর স্থায়ী সমাধানে সরকারিভাবে শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ, নদী শাসন এবং নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত জরুরি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে এমন উদ্যোগ ভাঙনের গতি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এবং ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
আয়োজকরা জানান, এটি একটি চলমান কার্যক্রম। পর্যায়ক্রমে আরও জিও ব্যাগ স্থাপন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শেষে আয়োজকরা স্থানীয় জনগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতনতার মাধ্যমেই নদী ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে এমন মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সারাদেশে নিয়ে আরও পড়ুন




