দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।


রাস্তার পাশে ও জনবহুল এলাকায় বিক্রি হওয়া স্ট্রিট ফুড বা ভাসমান খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং এসব খাদ্য বিক্রেতার কার্যক্রমে আইনি তদারকি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেমিনারের আয়োজন করেছে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম বিভাগ।
আগামী ১৫ আগস্ট ২০২৬, শনিবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে “স্ট্রিট ফুডের (ভাসমান খাবারের দোকান) স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং এর জন্য আইনি তদারকি নিশ্চিতকরণ” শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকরা বলছেন, বাংলাদেশে রাস্তার ধারের খাবার অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও এসব খাবারের মান, প্রস্তুত প্রক্রিয়া, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে। খোলা পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন, অনিরাপদ পানি এবং অপরিচ্ছন্নতার কারণে জনস্বাস্থ্যে নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধে ভাসমান খাদ্য বিক্রেতাদের কার্যক্রমকে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি কাঠামোর আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সেমিনারে আলোচনার অন্যতম বিষয় হিসেবে উঠে আসবে—ভাসমান খাদ্য বিক্রেতাদের অনেকের স্থায়ী দোকান বা নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক ঠিকানা না থাকায় তাদের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে খাবারের উপকরণ ও প্রস্তুতকারকের উৎস সম্পর্কে যথাযথ তথ্য না থাকায় খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রস্তাবনা
আয়োজক সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই ক্ষুদ্র ও ভাসমান খাদ্য ব্যবসায়ীদের জীবিকা বন্ধ না করে তাদেরকে একটি নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসা জরুরি।
এ লক্ষ্যে সংগঠনটির পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র:
প্রতিটি এলাকার ভাসমান খাদ্য বিক্রেতাকে সিটি কর্পোরেশন বা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের আওতায় আনা।
স্বাস্থ্যসম্মত জোনিং:
নির্দিষ্ট এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত ‘ফুড স্ট্রিট’ বা নির্ধারিত বিক্রয় জোন তৈরি করা, যেখানে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত থাকবে।
নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট:
বড় রেস্তোরাঁ ও খাদ্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ভাসমান খাদ্য বিক্রেতাদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত পরিদর্শন ও প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা এবং খাদ্যে ক্ষতিকর রং বা নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
স্বাস্থ্যবিধি ও হাইজিন প্রশিক্ষণ:
খাদ্য বিক্রেতাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণ এবং খাবার ঢেকে রাখার বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আওতায় আনা।
সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং প্রায় ১৫০ জন স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা অংশগ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে।
সেমিনারে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) সোয়েব উদ্দিন খান এবং বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি।
এছাড়া সেমিনারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ সেমিনারের মাধ্যমে একদিকে যেমন স্ট্রিট ফুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা সুরক্ষিত রেখে তাদের জন্য একটি নিয়ন্ত্রিত ও স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরির পথ বের হবে, অন্যদিকে তেমনি সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি ও আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিস্তারিত আসছে...
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








