দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মোঃ জাহিদ তানভীর আজাদ, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় অগ্নিকাণ্ড এখন অনেকটাই নিত্যদিনের আশঙ্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই বড় ও জনবহুল উপজেলায় এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন গড়ে ওঠেনি। ফলে আগুন লাগার পরপরই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, কয়েক বছর আগে হাকিমপুর চুয়া মল্লিকপাড়া এলাকায় ফায়ার স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রায় এক একর জমি নির্ধারণ করা হয়। সরকারি প্রকল্পের অংশ হিসেবে সেখানে সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। তবে সময় গড়ালেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দৌলতপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বসতবাড়ি, বাজার ও কৃষিজমিতে প্রায়ই আগুনের ঘটনা ঘটে। কিন্তু নিজস্ব ফায়ার স্টেশন না থাকায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে দেরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়, কিন্তু ততক্ষণে পুড়ে যায় ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ফসল।
বিশেষ করে এই অঞ্চলের অন্যতম অর্থকরী খাত পান চাষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। দৌলতপুরের উৎপাদিত পান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয় এবং এর চাহিদাও ব্যাপক। কিন্তু একটি অগ্নিকাণ্ডেই মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে যায় বিস্তীর্ণ বরজ। এতে চাষিদের বছরের পর বছর বিনিয়োগ ও শ্রম একসাথে নষ্ট হয়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফায়ার স্টেশন নির্মাণের জন্য জমি নির্ধারণের পরও কাজ শুরু না হওয়ায় তারা হতাশ। তাদের মতে, একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকলে প্রাথমিক পর্যায়েই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতো এবং ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমে আসত।
দৌলতপুরের সচেতন মহল মনে করেন, বিপুল জনগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুষ্টিয়া-০১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্জ রেজা আহামেদ বাচ্চু মোল্লা বিষয়টি জাতীয় সংসদে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করবেন। একই সঙ্গে তারা আশা করছেন, সরকার দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণকাজ শুরু করবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এতে অগ্নিকাণ্ডসহ অন্যান্য দুর্ঘটনায় মানুষের জানমাল রক্ষা সহজ হবে এবং দৌলতপুরবাসী কিছুটা হলেও নিরাপত্তা ফিরে পাবে।
সারাদেশে নিয়ে আরও পড়ুন








