দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
প্রতিবেদক: নতুন দৃষ্টি নিউজ ডেস্ক

চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ উপলক্ষে টানানো একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শোক ব্যানারটিতে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হলেও, ব্যানারের নিচে সংশ্লিষ্ট আবাসিক হলের নাম হিসেবে ‘শেখ মুজিব হল’ উল্লেখ করায় শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, বিষয়টি কেবল নাম ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কারণ, উক্ত হলের গেটের ভেতরে বড় করে স্পষ্টভাবে ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদী’ নামটি লেখা রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই বাস্তবভাবে কার্যকর করা হয়েছে। ফলে শোক ব্যানারে পূর্বের নাম ব্যবহার করাকে তারা অসংগত ও অশ্রদ্ধাপূর্ণ বলে মনে করছেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর নামে হলের নামকরণ এখন আর কেবল একটি প্রস্তাব নয়; এটি দৃশ্যমান বাস্তবতা। সেই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে ব্যানারে ভিন্ন নাম ব্যবহার করায় তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর আত্মত্যাগ ও স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এর ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল–এর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ একটি মানবিক ও রাজনৈতিকভাবে স্বাভাবিক বিষয় হলেও, একই ব্যানারে এমন একটি হলের নাম ব্যবহার করা—যা শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে পরিবর্তন করে শহীদের নামে চিহ্নিত করেছে—তা অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ইতিহাস ও ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা দেখালেও, শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর মতো ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে সেই সম্মান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় না। তারা মনে করছেন, এই ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের অবস্থান আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শোক প্রকাশ, ব্যানার, নামফলক কিংবা স্থাপনার নামকরণ—সব ক্ষেত্রেই চলমান বাস্তবতা ও শিক্ষার্থীদের আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। অন্যথায়, ভালো উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও এমন উদ্যোগ বিভ্রান্তি ও বিতর্ক তৈরি করতে পারে। সচেতন মহলের অভিমত, শহীদদের নাম ও স্মৃতি রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মানজনক আচরণই হওয়া উচিত। শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর নাম যেহেতু ইতোমধ্যে হলের গেটে দৃশ্যমানভাবে যুক্ত হয়েছে, তাই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্ব—এই বাস্তবতাকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতে যেকোনো কর্মসূচি বা প্রকাশনা পরিচালনা করা।
ক্যাম্পাস নিয়ে আরও পড়ুন




