
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার লালন শাহ মাজার এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং তাকে ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে লালন শাহ মাজার থেকে বের হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মাজার থেকে বের হয়ে ভক্তদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে এক ব্যক্তি ডিম ছুড়ে মারেন। পরে কয়েকজন তাকে ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রায় ৩০ মিনিট পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
ঘটনার আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে তাড়া করতে দেখা যায়।
ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা কুমারখালী থানায় অবস্থান নেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে ছিলেন এবং ঘটনার বিষয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
এদিকে হামলার ঘটনায় এনসিপির নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর এটি আবারও হামলার ঘটনা। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার ওপর এটি পঞ্চম হামলা বলেও দাবি করেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বারবার হামলা, ভয়ভীতি বা দমন-পীড়নের মাধ্যমে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না। ন্যায়, অধিকার ও আজাদীর আন্দোলন কোনো বাধায় থামবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বী। তিনি বলেন, ‘হামলার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মব-কালচারের রাজনীতিও তারা বিশ্বাস করেন না।’
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লালন মাজারে এসেছিলেন বলে পুলিশ জানতে পারে। সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা ঘটেছে এমন খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ওসি বলেন, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এনসিপি সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ২২ মে জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জ শহরের স্টাফ কোয়ার্টার, সোনালী ব্যাংক ও সার্কিট হাউস এলাকায়ও তার ওপর হামলার অভিযোগ করা হয়েছিল।
তবে কুষ্টিয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া যাবে।
দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।