দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।


বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ঐতিহাসিক শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে শুরু হয়েছে জাতীয় পর্যায়ের তিন দিনব্যাপী উৎসব। কবিগুরুর স্মৃতিধন্য এ প্রাঙ্গণ ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছুটে আসেন সাহিত্যপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী ও দর্শনার্থীরা।
দুপুরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। অনুষ্ঠান উদ্বোধনের পর তিনি কুঠিবাড়ির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্মারক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, জেলা পরিষদের প্রশাসক সৌহরাব উদ্দিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
“শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ” শীর্ষক এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান। স্মারক বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. ওয়াকিল আহমেদ।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনা, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্যানুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও মঞ্চনাটক। সন্ধ্যার পর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় কুঠিবাড়ি এলাকা হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। শিল্পীদের পরিবেশনায় দর্শনার্থীরা দীর্ঘ সময় উপভোগ করেন রবীন্দ্রচেতনার আবহ।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুঠিবাড়ির সামনের খোলা মাঠে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। প্রবেশপথ ও আশপাশজুড়ে আঁকা হয়েছে রঙিন আলপনা। নতুন সাজে সজ্জিত করা হয়েছে পুরো প্রাঙ্গণ। দর্শনার্থীদের পদচারণায় দিনভর মুখর ছিল ঐতিহাসিক এ স্থানটি।
কুমারখালীর শিক্ষক মো. আশিকুর রহমান বলেন, “রবীন্দ্রনাথ আমাদের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান শক্তি। নতুন প্রজন্মকে তাঁর চেতনার সঙ্গে পরিচিত করতেই এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ।”
দৌলতপুর থেকে আসা দর্শনার্থী রাসেল রেজা বলেন, “শিলাইদহের অনুষ্ঠান নিয়ে অনেক শুনেছি। এবার সরাসরি এসে দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি।”
শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মো. আল আমিন জানান, অনুষ্ঠানকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এবার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলার আয়োজন রাখা হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য কালবৈশাখী বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, জমিদারি তদারকির দায়িত্ব নিয়ে ১৮৯১ সালে শিলাইদহে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পদ্মাপাড়ের প্রকৃতি ও জনজীবনের প্রেরণায় তিনি এখানে রচনা করেন বাংলা সাহিত্যের অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি। সেই স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়ি এখনও রবীন্দ্রপ্রেমীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র।
সারাদেশে নিয়ে আরও পড়ুন




