দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
প্রতিবেদক: নতুন দৃষ্টি নিউজ ডেস্ক

বিশেষ প্রতিনিধি মাওঃ তানভীর করিমগঞ্জ
সাইফ সিরাজের একমাত্র অপরাধ, তিনি কওমি ব্যাকগ্রাউন্ডের আলেম। আপনারা অনেকে সাইফ সিরাজ ভাইকে চিনেন, অনেক জ্ঞান পিপাসু এই মানুষটার লিখার ভক্ত। তিনি বর্তমানে করিমগঞ্জ ছোবহানিয়া কামিল মাদরাসার সম্মানিত শিক্ষক। পদবি অনুযায়ী সহকারী অধ্যাপক। কিশোরগঞ্জ ইমাম উলামা পরিষদের সিনিয়র সক্রিয় সদস্য।কওমী ও আলিয়ার এই নক্ষত্র আজ জামাতের জুলুমের শিকার।
করিমগঞ্জ ছোবহানিয়া কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি, জামাতের রোকন প্রফেসর আজিজ এবং জামাতের শিক্ষক ।কাজী আবদুল্লার যৌথ জুলুমের শিকার হয়েছেন দেশের একজন ইসলামিক লেখক, কবি ও সম্মানিত শিক্ষক সাইফ সিরাজ! তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার সর্বোচ্চ ধর্মীয় বিদ্যাপীঠ, করিমগঞ্জ ছোবহানিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করতে ছিলেন। উনার আগে কাজী মোঃ আব্দুল্লাহ ১ বছর ৮ মাস সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন এবং নিয়মিত অধ্যক্ষের ইন্টারভিউয়ে অংশ গ্রহণের বাধ্যবাধকতায় পদ থেকে অব্যাহতি দিতে বাধ্য হন।
নিয়মিত অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য আব্দুল্লাহ বহু অনৈতিক দৌড়ঝাঁপের পরেও সরকার কর্তৃক অধ্যক্ষ পদের ইন্টারভিউ এনটিআরসিএ-এর অধীনে নিয়ে নেওয়ায় অধ্যক্ষ পদের কাঙ্ক্ষিত আশা পূরণ হয়নি।জানা যায়, যে শিক্ষকরা অধ্যক্ষ পদে প্রার্থী ছিলেন তাদেরকে জোরপূর্বক আবেদন প্রত্যাহারের চাপ দিয়ে, আর্থিক লেনদেনের প্রলোভন দেখিয়ে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে আবেদন প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন জামাতের রোকন প্রফেসর আজিজ এবং শিক্ষক কাজী আব্দুল্লাহ। কিছুদিন আগে সরকার কর্তৃক অধ্যক্ষ পদের নিয়োগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকটা বেসামাল হয়ে পড়ে প্রফেসর আজিজ এবং কাজী আব্দুল্লাহ। আদর্শিক মিল ও দুজনের বন্ধুত্ব থাকায় গভর্নিং বডির সভাপতিকে ম্যানেজ করে ও অনুগত কিছু সদস্যকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে গত ৩০/১১/২০২৫ তারিখ গভর্নিং বডির একটা মিটিংয়ের ব্যবস্থা করে। সে মিটিংয়ে বডির ছয়জন সদস্যকে নোটিশ না করে অনুগত সাতজন সদস্যকে সমাবেত করে। অন্য সদস্যরা আব্দুল্লাহ'র অনুগত সদস্যদের সিদ্ধান্তে ভেটো দিতে যেন না পারে তাই অত্যন্ত সংগোপনে মাত্র সাত মিনিটে মিটিংয়ের কাজ সমাপ্ত করে দ্রুত সভারস্থল (মাদ্রাসা) ত্যাগ করে চলে যায় জামাতের এই নেতৃবৃন্দ! অন্য সদস্যরা মাত্র ১৫ মিনিট পরে এসে মাদ্রাসায় তাদের কাউকে খোঁজে পায়নি।লুকোচুরির মিটিংয়ে তারা নীতিমালা বহির্ভূত ভাবে সাইফ সিরাজকে সরিয়ে আব্দুল্লাহকে পুনরায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়ে দেয়। এবং আব্দুল্লাহকে পুনরায় অধ্যক্ষের চেয়ার দখলের সুযোগ করে দেয়।এই জামায়াতের লোকেরা শুধুমাত্র নিজের দলের লোক না হওয়ার কারণে একজন বিজ্ঞ আলেমের উপর জুলুম করল।
★ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের দু'টি বিধানের আলোকে আব্দুল্লাহ'র পুনরায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।
১. ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালায় আছে, ইন্টারভিউয়ের জন্য যিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োজিত হবেন, পরবর্তী নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনি অধ্যক্ষ সম্পর্কীয় সকল কাজ পরিচালনা করবেন।
২. জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ হয়ে আব্দুল্লাহ ১ বছর ৮ মাস সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদে বহাল ছিলেন। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর। অথচ তাঁরা নিয়মের কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে।
জোর জবরদস্তি করে সাইফ সিরাজ কে চেয়ার থেকে সরিয়ে জামাত শিবিরের সহযোগিতায় কাজী আবদুল্লাহ কে নিয়ম ভেঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের চেয়ারে বসিয়ে দেয়। বিদ্র: কিছুদিন আগে কাজী আব্দুল্লার ছোট ভাই উপজেলার আরেকটি ধর্মীয় বিদ্যাপীঠ, কিরাটন ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামাতনেতা আমিনুল্লাহ শিক্ষক নিয়োগে কেলেংকারীর জন্য সাধারণ মানুষের হেনস্তার শিকার হন পরে পুলিশ পাহারায় তাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে আনা হয়।ক্ষমতার যাওয়ার আগেই জামায়াত এভাবে বিভিন্ন জায়গায় নব্য ফেসিবাদী স্টাইলে দখলবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। এই দখলবাজরা শীঘ্রই ক্ষমা চেয়ে ন্যায়ের কাছে যেন আত্মসমর্পণ করে। সেই প্রত্যাশা করি।
ঢাকা-বিভাগ নিয়ে আরও পড়ুন








