দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
প্রতিবেদক: শহীদুল ইসলাম শরীফ, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।

ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ অঞ্চলে চলমান জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট এখন কেবল যাতায়াত ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ নেই, তা সরাসরি হানা দিয়েছে কৃষকের অন্ন জোগানোর উৎস ‘ধান ক্ষেতে’। ডিজেলের অভাবে ইরি-বোরো মৌসুমের সেচ ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি বড়ো ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে।
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিশেষ করে ডিজেলের অভাবে ইরি-বোরো ধান ক্ষেতে সেচ দিতে না পারায় অনেক কৃষকের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পানির অভাবে ফেটে চৌচির হচ্ছে ফসলি জমি, যা এই অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বড়ো ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে।
বর্তমানে এই অঞ্চলে ইরি-বোরো ধান পাকার শেষ মুহূর্ত চলছে। এই সময়ে ধানের ফলন নিশ্চিত করতে নিয়মিত সেচ দেওয়া অপরিহার্য। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে অধিকাংশ সময় ‘পেট্রোল বা ডিজেল নেই’ সংকেত ঝুলতে থাকায় কৃষকরা সেচ পাম্প চালাতে পারছেন না। ফলে পানির অভাবে ধানের শিষ সাদা হয়ে যাচ্ছে এবং ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভোর রাত থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও তারা চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছেন না। অনেক কৃষক জানান, তেল নেই বলে আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাম্প না চললে কয়েকদিনের মধ্যেই সব ধান মরে যাবে। আমাদের বিনিয়োগ করা সব টাকা জলে যাবে।”
ডিজেলের এই কৃত্রিম সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র গ্রাম পর্যায়ে চড়া দামে তেল বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুচরা বাজারে তেলের দাম বেশি হওয়ায় ধান চাষের উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। একদিকে তেলের অভাব, অন্যদিকে বাড়তি দাম, এই দ্বিমুখী চাপে ছোট ও মাঝারি কৃষকরা পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত এই সংকট নিরসন করা না গেলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান উৎপাদন সম্ভব হবে না। সেচ ব্যবস্থার এই স্থবিরতা কেবল কৃষকের ক্ষতি নয়, বরং আগামী দিনগুলোতে চালের বাজারেও বড়ো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
ভুক্তভোগী তৈয়ব আলী, যিনি জয়মঙ্গলে দুটি ইরি প্রজেক্ট চালান ও কৃষক মোহাম্মদ মানিক জানান, এভাবে চলতে থাকলে খরচের টাকাও তোলা সম্ভব হবেনা।, কৃষি কাজের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে দেশের অন্যতম এই কৃষি বেল্টে ধানের উৎপাদনে বড়ো ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে।
অন্যান্য নিয়ে আরও পড়ুন








