প্রতিবেদক: নতুন দৃষ্টি নিউজ ডেস্ক

৩৬তম বিসিএস কর্মকর্তা এবং নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সদ্য সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। একাধিক নারীর সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি করা হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) ফেসবুকে প্রথম ভিডিওটি ছড়ানোর পরপরই এই কর্মকর্তা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
শুরুতে আলাউদ্দিন ভিডিওগুলোকে 'এআই (AI) দিয়ে তৈরি' বলে দাবি করলেও, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। অন্তত ৭ জন নারীর সঙ্গে আলাউদ্দিনের অন্তরঙ্গ অবস্থার ১০টি ভিডিও পাওয়া গেছে। ফ্যাক্টচেকিং টিমের পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এগুলো এআই জেনারেটেড নয়, বরং প্রতিটি ভিডিও আসল।
সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, ভিডিওগুলো গোপনে ধারণ করা হয়নি। আলাউদ্দিন নিজেই সচেতনভাবে এগুলো ধারণ করেছেন এবং নারীদের নাম অনুযায়ী আলাদা ফোল্ডার করে কম্পিউটারে সংরক্ষণ করেছেন (যেমন: mahi, anika_suma_(3), setu_senior ইত্যাদি)। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবেই এসব ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বা ফাঁদে ফেলার চেষ্টা ছিল কি না, তা নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিও ফাঁসের নেপথ্যে ছিলেন সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা ভূমি অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী রাজু রায়। আলাউদ্দিন যখন শাল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন তিনি পরিবার ছাড়া ডাকবাংলোতে থাকতেন এবং রাজুর বাসা থেকেই তার খাবার আসত। এই ঘনিষ্ঠতার সুবাদে রাজু জানতে পারেন যে, আলাউদ্দিনের পেনড্রাইভে নারীদের অন্তরঙ্গ ভিডিও রয়েছে।
পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে রাজু সেই পেনড্রাইভ থেকে ৮-১০টি ভিডিও নিজের মোবাইলে স্থানান্তর করেন। এরপর শুরু হয় ব্ল্যাকমেইলিং। শাল্লা ভূমি অফিসের একটি সূত্রের দাবি, ভিডিও ডিলিট করার শর্তে আলাউদ্দিন রাজুকে বড় অঙ্কের টাকা এবং শাল্লা সদরে ডিসি খতিয়ানের দুটি বাজার ভিটি দেন। কিন্তু ডিলিট করার আগেই রাজু ভিডিওগুলো তার পরিচিত এক সংবাদকর্মীর কাছে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুন মাসে সেই সংবাদকর্মীর মাধ্যমেই ভিডিওগুলো অন্যান্য সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছায়।
হাতিয়ায় যোগদানের আগে আলাউদ্দিন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর এবং শাল্লা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর তিনি শাল্লায় যোগ দেন এবং সেখানে ২ বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি হন। এরপর তিনি সরাসরি হাতিয়ার ইউএনও হিসেবে পদায়ন পান। সূত্রমতে, ফাঁস হওয়া ভিডিওগুলো মূলত শাল্লায় কর্মরত থাকাকালীন ডাকবাংলোতে ধারণ করা।
সোমবার সকালে হাতিয়া উপজেলা পরিষদে নিজ কার্যালয়ে গিয়ে ভিডিও ভাইরালের বিষয়টি জানতে পারেন আলাউদ্দিন। তাৎক্ষণিক ছুটির আবেদন করে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মু. তানভীর হাসান রুমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে আলাউদ্দিনকে ওএসডি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ভিডিওর সত্যতা পাওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিস্তারিত তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো কর্মকর্তার এমন ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাস ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ক্ষমতার চেয়ার কেবলই জনসেবার জন্য, ব্যক্তিগত লালসা চরিতার্থ করার জন্য নয়। প্রশাসনের সম্মান রক্ষার্থে বিষয়টির দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
অপরাধ নিয়ে আরও পড়ুন









দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।