

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে লাইসেন্সবিহীনভাবে ডেভেলপার ব্যবসা পরিচালনা এবং একের পর এক অনুমোদনহীন বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগে মুরাদ হোসেন ভূঁইয়াকে ঘিরে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং অর্থের উৎস নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, মুরাদ হোসেন অতীতে ঢাকার পুরান ঢাকার সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ঘনিষ্ঠজন ও ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এমনকি তার কাছে হাজী সেলিমের রক্ষিত অর্থ রয়েছে—এমন অভিযোগও বিভিন্ন মহলে উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ওই অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে অনুমোদনহীনভাবে একের পর এক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন, নকশা ও ডেভেলপার লাইসেন্স রয়েছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী মন্টুর সঙ্গেও মুরাদ হোসেনের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে আওয়ামী লীগ আমলে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করছেন।
তবে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা করছেন এবং নিজেকে বিএনপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার তৎপরতা চালাচ্ছেন।
এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একজন বিতর্কিত ব্যক্তি কীভাবে নতুন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছেন এবং তার অতীত ভূমিকার বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা কতটা সতর্ক?
বিশেষ করে অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ, ডেভেলপার ব্যবসার বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অর্থের উৎস নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে নগর পরিকল্পনা ও ভবন নির্মাণ-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে মুরাদ হোসেন ভূঁইয়ার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। একইভাবে হাজী সেলিম, আব্দুল বারী মন্টু এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যও অনুসন্ধানের মাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যাই থাকুক না কেন, নগর উন্নয়ন ও ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা উচিত। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।