দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।


বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর জন্ম একটি পরিবারের জন্য যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনই একটি ভিন্ন জীবনের সূচনা। বিশেষ করে মায়ের জীবনের গতিপথ পুরোপুরি বদলে যায়। কখনও কি ভেবে দেখেছেন, এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য মহান আল্লাহ কীভাবে একজন মাকে নির্বাচন করেন? এই বিশেষ মায়েদের অদম্য সাহস এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার গভীরে প্রবেশ করতে, আমরা একটি আধ্যাত্মিক প্রেক্ষাপট থেকে তাদের জীবনকে দেখার চেষ্টা করেছি।
কল্পনা করুন, আল্লাহ তাআলা খুব গভীরভাবে একজন নারীর হৃদয় পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি দেখছেন তার সহ্যশক্তি কতটুকু, তার মমতা কতটা গভীর, এবং ভেঙে পড়েও আবার উঠে দাঁড়ানোর অবিশ্বাস্য ক্ষমতা তার আছে কিনা। তারপর তিনি ফেরেশতাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, “এই মায়ের হাতে আমি একটি বিশেষ সন্তান তুলে দেব।”
ফেরেশতারা অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন, “কিন্তু কেন এই মা? তিনি তো খুব সাধারণ একজন মানুষ… কখনও হাসেন, কখনও কাঁদেন, কখনও ভেঙেও পড়েন।”
মহান আল্লাহ তখন মৃদু হেসে উত্তর দেন, “কারণ এই মা ভালোবাসতে জানে। আমি এমন কাউকে এই দায়িত্ব দেই না, যার হৃদয়ে মমতা নেই। আমি তাকে নিখুঁত হওয়ার জন্য বেছে নিইনি; আমি তাকে বেছে নিয়েছি, কারণ কষ্টের মাঝেও সে সন্তানের হাত ছাড়বে না।”
এই মনোনয়নের পর শুরু হয় মায়ের প্রতিদিনের কঠোর বাস্তবতার লড়াই। এই মায়েদের যুদ্ধ শুধু সন্তানের যত্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তারা প্রতিনিয়ত সমাজের ভুল বোঝাবুঝির সাথে যুদ্ধ করেন। মানুষের কটু কথা, তিরস্কার এবং নিজের ক্লান্তি তাদের নিত্যসঙ্গী। তাদের জীবনে থাকে না বলা অনেক কান্না, যা তারা সকলের আড়ালে লুকিয়ে রাখেন। সমাজের অনেক মানুষের কাছে তারা উপহাসের পাত্র হন, তবুও তারা হাল ছাড়েন না।
কিন্তু এত কষ্টের মাঝেও আনন্দের মুহূর্তগুলো তাদের সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। একজন বিশেষ সন্তানের মা জানে সন্তানের প্রতিটি ছোট অগ্রগতি কত বড় আশীর্বাদ। যখন তাদের সন্তান প্রথমবার “মা” বলে ডাকে, অথবা ছোট্ট কোনো নতুন কাজ শেখে—যেমন নিজের হাত দিয়ে খাবার খাওয়া বা একটা শব্দ বলা—তখন সেই আনন্দ তাদের কাছে পুরো পৃথিবীর সমান হয়ে যায়। এই ছোট্ট জয়েই তারা খুঁজে পান জীবনের পরম তৃপ্তি।
এই মা আর দশজনের মতো জীবনকে দেখেন না। এই জীবনের দীর্ঘ পথ চলায় তিনি ধাপে ধাপে ধৈৰ্য্য, কৃতজ্ঞতা এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা শেখেন। সমাজের চাপ আর নিজের ক্লান্তি যখন তাকে আরও ভাঙার চেষ্টা করে, তখন তিনি শক্তি খুঁজে পান নিজের সন্তানের চোখের আলোতে। ফেরেশতারা যখন জিজ্ঞেস করেন, “এই দীর্ঘ পথচলায় তার সঙ্গী কে হবে?” আল্লাহ তাআলা উত্তর দেন, “তার সন্তানের চোখেই সে নিজের শক্তির প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাবে।”
আর তখনই অনুধাবন হয়, “একটি আয়নাই যথেষ্ট…” (সন্তানের চোখই হয়ে ওঠে মায়ের শক্তির আয়না)।
অন্যান্য নিয়ে আরও পড়ুন




