




কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ক্ষতিপূরণ কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি বড় অংশ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হলেও অনেক অক্ষত ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ কার্ড পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, যাদের কৃষিজমিতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, এমন অনেক ব্যক্তির নাম সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্তদের মধ্যে কেউ কেউ কৃষিকাজের সঙ্গে নিয়মিত সম্পৃক্ত নন, আবার কেউ কিশোরগঞ্জ শহরে বসবাস করেন। ফলে প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে অযোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি সহায়তা দেওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন শাহেদ মিয়া (পিতা: আরজ আলী), রাব্বি মিয়া (পিতা: খলিল মিয়া), জালাল মিয়া, হৃদয়, আবুল হাসেম, স্বপন, জয়নাল, সুলত মিয়া, রমিজ আলী, রুপ মিয়া, সুরুজ মিয়া, জসিম উদ্দিন, আবুল কালাম, রফিকুল ইসলাম, হাসিম উদ্দিন, হাইদুল, জহুরুল ইসলাম, কাজল মিয়া, ফরিদ মিয়া, রুকতু মিয়া, চান্দু মিয়া, সাইকুল, আজিজুল ইসলাম উকিল, নুরুল্লাহ, কামাল, জাহেদ, কাঞ্চন, আতাউর,
অন্যদিকে, অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও সুবিধাভোগীর তালিকায় নাম রয়েছে ফরিদ মিয়া (পিতা: আরজ আলী), আবু তাহের (পিতা: আব্দুল গফুর), জিয়াউর রহমান (পিতা: আব্দুল গফুর), ইসহাক (পিতা: আব্দুর রশিদ), ইয়াকুব আলী (পিতা: মকসুদ আলী), নোয়াব আলী (পিতা: আব্দুল জব্বার), সাইকুল (পিতা: আহাম্মদ আলী), আলমাস (পিতা: মাহাম্মদ), আব্দুল্লাহ আল মাসুদ (পিতা: এম. এ. হাসান), আবু বকর সিদ্দিক (পিতা: লাল মাহমুদ), আল আমিন (পিতা: নোয়াব আলী), আব্দুর রহমান (পিতা: নোয়াব আলী), সাইফুল (পিতা: আহাম্মদ), আবু তাহের (পিতা: মুসলিম), মোবারক (পিতা: আইয়ুব আলী)সহ আরও অনেকে নাম।
সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তাদের ভাষ্য, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত পরিচিতি, আত্মীয়তা ও রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেককে সরকারি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে এবং প্রকৃত কৃষকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে তারা দাবি করেন।
এ ঘটনায় সুতারপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মো. বয়ান ফকির এবং ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মুক্তা আক্তারের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও প্রভাব খাটিয়ে তালিকা প্রণয়নের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। তাদের দাবি, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিবেচনায় সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সুবিধাভোগীদের তালিকা পুনঃযাচাই এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সরকারি সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অনিয়মের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানান তারা।
তবে এ বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. বয়ান ফকির এবং ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মুক্তা আক্তারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ দেখায়
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন





দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।