Home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


করিমগঞ্জে এক পরিবারে তিন দলের তিন নেতা: রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা

আজিজুল হক
আজিজুল হকচিফ রিপোর্টার

আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪

Facebook
Twitter

Article Image


কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার চরপাড়া গ্রামের একটি পরিবারকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই পরিবারের তিন সহোদর দেশের তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ ও বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে।

পরিবারের তিন ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিচয়:

১. মোশাররফ হোসেন: বড় ভাই। তিনি বর্তমানে করিমগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এবং কিশোরগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি)।

২. মোবারক হোসেন: মেজ ভাই। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভাপতি।

৩. মিজানুর রহমান মিজান: ছোট ভাই। তিনি করিমগঞ্জ পৌর যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনৈতিক কৌশল না কি সুবিধাবাদ?

স্থানীয়দের একটি বড় অংশের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ক্ষমতার পালাবদল হলেও পরিবারটির প্রভাব-প্রতিপত্তি বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো ভাটা পড়েনি। উল্টো পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারা বরাবরই সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেছেন।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতির মাঠে নানা অভিযোগও উঠেছে। আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ মিয়ার অভিযোগ, সরকার পতনের পর স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হলেও যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। তিনি দাবি করেন, অন্য দুই ভাইয়ের ভিন্ন রাজনৈতিক দলে শক্তিশালী অবস্থানের কারণেই তিনি সুবিধা ভোগ করছেন।

অন্যদিকে, বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের একাংশের অভিযোগ, এনসিপি নেতা মোবারক হোসেনের প্রভাবের ফলেই মোশাররফ হোসেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। যদিও জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি মিজানুর রহমান দাবি করেছেন, পিপি নিয়োগের জন্য বিএনপির পাঠানো সুপারিশ তালিকায় মোশাররফ হোসেনের নাম ছিল না।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, এই তিন ভাইয়ের প্রয়াত বাবা জহিরুল হক মেম্বার ছিলেন স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। সেই পুরনো রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ও প্রভাবের উত্তরাধিকারই এখন ভিন্ন ভিন্ন ধারায় বজায় রাখছেন তিন ভাই।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোশাররফ হোসেন তা সরাসরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমরা তিন ভাই হলেও আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন। পিপি পদে নিয়োগের জন্য আমি নিজস্ব যোগ্যতায় চেষ্টা করেছি।”

যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ থাকলেও আমরা ভাই। তবে আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না হওয়ার পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক প্রভাব নেই।”

এদিকে, এনসিপি নেতা মোবারক হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

করিমগঞ্জের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই পরিবারের তিন সদস্যের ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত আদর্শের বহিঃপ্রকাশ, না কি ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল—তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক ও বিশ্লেষণের শেষ নেই।



অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।

সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |

স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।