দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।


কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদী টোলপাড়া এলাকায় সরকারি ক্যানালের মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানাল থেকে মাটি অপসারণ করে বিভিন্ন ইটভাটা ও ভরাট কাজে সরবরাহ করা হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সরকারি ক্যানালের মাটি কেটে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করে আসছে। সম্প্রতি এ কার্যক্রম আরও বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এভাবে মাটি কাটতে থাকলে ক্যানালের স্বাভাবিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্যানালের পাড় কেটে ট্রলি চলাচলের জন্য অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। ক্যানালের বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং সেখানে মাটি কাটার স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, গত কয়েক রাতে বিপুল পরিমাণ মাটি ট্রলিযোগে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর নজরদারির অভাবেই এমন ঘটনা ঘটছে। তারা অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয়দের অভিযোগে নাম আসা বানাত ব্যাপারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, মাটি তার নিজস্ব জমি থেকে কাটা হচ্ছে। তবে কেন রাতের বেলায় মাটি কাটা হচ্ছে এবং অন্যরা কীভাবে সেই জমি থেকে মাটি কাটছে, এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, “সরকারি ক্যানালের মাটি কাটার বিষয়ে অভিযোগ শুনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং প্রশাসনকে অবহিত করা হবে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে সরকারি ক্যানাল ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ক্যানাল ও বাঁধের স্থায়িত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।
অপরাধ নিয়ে আরও পড়ুন








