দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।


পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় গত অনেকদিন যাবৎ স্থানীয় জনগণ মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। জমি বেচা-কেনা বন্ধ থাকায় অনেকেরই চিকিৎসা সেবা, প্রবাস যাত্রা, বাসাবাড়ি নির্মাণ, ব্যবসা বাণিজ্যে বিনিয়োগসহ নানা ধরণের কাজ থমকে রয়েছে। মানুষ দূর দূরান্ত থেকে দিনের পর দিন সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে এসে দলিল করতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। এখানে কর্মরত দলিল লেখকগণ, নকল নবিশগণ, স্ট্রাম্প ভেন্ডারগণ, সহকারী দলিল লেখকগণসহ প্রায় ৫০ মানুষ বেকার সময় পার করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি সরকারও প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এখানে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার পদটি গত দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য রয়েছে।
অত্র উপজেলার বনওয়ারীনগর ইউনিয়নের গ্রামের মো: মতিউর রহমান জানান, সম্প্রতি তাঁর ছেলে মো: নয়ন মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর ক্যান্সার ধরা পড়েছে। তিনি তাঁর ছেলের চিকিৎসার ব্যয় মিটানোর জন্য এক প্রতিবেশীর কাছে জমি বিক্রি করেছেন। কিন্তু বিক্রিত জমি রেজিস্ট্রী করে দিতে না পারায় তাঁর কাছ থেকে তিনি সমুদয় টাকা নিতে পারছেন না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টির দ্রুত সমাধান চান তিনি।
এবার মালোশিয়ার ‘নয়া মানুষ’ মো: হেলাল জানান, তিনি ব্যাংকে কিছু জমি বন্ধক রেখে ঋণের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এখন তাকে টাকা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু আজ দীর্ঘদিন যাবৎ সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে তিনি দলিল সম্পাদন করতে পারছেন না। ফলে এই মুহূর্তে তিনি টাকার অভাবে মারাত্মক সমস্যায় রয়েছেন।
পুঙ্গলী ইউনিয়নের গ্রামের মো: হাবিবুর রহমান জানান, তিনি তাঁর ছেলেকে প্রবাসে পাঠানোর যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এখন জমি বিক্রি করে টাকা দিতে না পারার কারণে তাঁর ছেলের প্রবাসযাত্রা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ফরিদপুর উপজেলায় ০৬টি ইউনিয়ন ও ০১টি পৌরসভার শত শত মানুষ বর্তমানে জমি কেনা-বেচা করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এখানে কর্মরত দলিল লেখকগণ তারিকুল ইসলাম ও মো: আব্দুল আউয়াল জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় প্রায় ৩০ জন দলিল লেখকগণ ও ১৫-২০ জন নকল নবিশসহ প্রায় ৫০ মানুষের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এখন তাঁরা সবাই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। জনদুর্ভোগ, সরকারের রাজস্ব অর্জন বন্ধ থাকা ও উপজেলা ফরিদপুর সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের অচল অবস্থা সবার সামনে তুলে ধরলাম।
আলোচিত নিয়ে আরও পড়ুন




