home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


সীতাকুন্ডে অধম্য ইচ্ছা শক্তি থামাতে পারেনি রাব্বি কে পা দিয়ে লিখে এইচএসসি তে জিপিএ-৫

জিল্লুর রহমান ভূঁইয়া জিতু, সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রতিনিধি।
জিল্লুর রহমান ভূঁইয়া জিতু, সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রতিনিধি।চট্টগ্রাম।

আপডেট: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫০

Facebook
Twitter

সীতাকুন্ডে অধম্য ইচ্ছা শক্তি থামাতে পারেনি রাব্বি কে পা দিয়ে লিখে এইচএসসি তে জিপিএ-৫

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে রাব্বি নামে এক ছাত্রের দুর্ঘটনায় দুই হাত হারিয়েও থেমে যায়নি পড়াশোনা।মুখ দিয়ে লেখা শুরু করে পরে আয়ত্ত করেছেন পা দিয়ে লেখার কৌশল।মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাব্বি নামে এ ছাত্র পা দিয়েই লিখে এসএসসির পর এবার এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছেন।তার স্বপ্ন একদিন বিজ্ঞানী হবেন।সে পড়াশোনা করতে চান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।
রাব্বি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বজলুর রহমানের ছেলে।সে চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।রাব্বি গত ২০২৪ সালে ভাটিয়ারীর হাজী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয় থেকে পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন।
ঊল্লেখ্য,রাব্বি গত২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই হাত হারান।সেদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভাটিয়ারী ফুটওভার ব্রিজের ওপর একটি বৈদ্যুতিক তারে আটকে পড়েন রাব্বি।এতে দুই হাত থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কয়েক মাসের চিকিৎসায় সুস্থ হলেও শেষ পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয় তার দুই হাত।ওই দুর্ঘটনার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, রাব্বির পড়াশোনা হয়তো আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।কিন্তু হাল ছাড়েননি রাব্বি।অধম্য ইচ্ছা শক্তি তাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।মুখ দিয়ে লেখার অনুশীলন শুরু করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মুখ দিয়ে লিখেই পড়াশোনা চালিয়ে যান। পরে দ্রুত লেখার জন্য পা দিয়ে লেখার কৌশল আয়ত্ত করেন।এরপর থেকে পা দিয়েই পরীক্ষায় অংশ নেয়।
রাব্বি জানান, দুর্ঘটনার পর মা-বাবা ও শিক্ষকসহ অনেকেই তাকে সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। সবার সহযোগিতা ও নিজের প্রচেষ্টায় এ পর্যন্ত আসতে পেরেছেন।রাব্বি ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।এ জন্য বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে চান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।
রাব্বির বাবা বজলুর রহমান বলেন, অভাব-অনটনের সংসারে তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনই দৈনিক মজুরির কাজ করে সংসার চালান। ছেলের দুর্ঘটনার পর তার চিকিৎসা ও পড়াশোনা চালিয়ে নিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করেছে। আইসিডিডিআরবির গবেষক ও চিকিৎসক ফেরদৌস কাদেরী রাব্বির পড়াশোনার খরচ বহন করে আসছেন।ওসমান নামের এক শিক্ষক তাকে বিনামূল্যে কোচিং করিয়েছেন।
ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আনোয়ার বলেন, 'রাব্বির চেষ্টা ছিল। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও সে নিজেকে কখনো প্রতিবন্ধী মনে করেনি। বরং অন্যরা যা পারে, সেও তা পারবে,এমন বিশ্বাস ছিল তার। আজ সেই বিশ্বাসেই তার এই সফলতা। সে পাস করায় আমরাও গর্ববোধ করছি।

সারাদেশে নিয়ে আরও পড়ুন

সারাদেশে নিয়ে আরও পড়ুন



অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।

সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |

স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।