home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


পদ্মার ভাঙনে দৌলতপুরে নদীতীরের জনপদে আতঙ্ক।

মোঃ জাহিদ তানভীর আজাদ, জেলা প্রতিনিধি।
মোঃ জাহিদ তানভীর আজাদ, জেলা প্রতিনিধি।কুষ্টিয়া।

আপডেট: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৪৮

Facebook
Twitter

পদ্মার ভাঙনে দৌলতপুরে নদীতীরের জনপদে আতঙ্ক।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর ভাঙন আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর প্রবল স্রোতে প্রতিদিনই ভেঙে পড়ছে নদীতীরের মাটি। এরই মধ্যে ফসলি জমি, বসতভিটার অংশ ও স্থানীয় সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।


উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর, আতারপাড়া ও ডিগ্রীরচর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোথাও বড় বড় অংশ ধসে পড়ছে, আবার কোথাও নদীর কিনারায় ফাটল দেখা দেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই মাটি নদীতে চলে যাচ্ছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির পর থেকেই ভাঙন শুরু হয়। তবে কয়েকদিন ধরে স্রোতের চাপ বাড়ায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। নদীর কাছাকাছি থাকা পরিবারগুলো তাই আগেভাগেই ঘরবাড়ির মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


শুধু বসতভিটা নয়, ভাঙনের প্রভাব পড়েছে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন অংশ নদীতে বিলীন হওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীতীরের কাছাকাছি থাকা বিদ্যুতের খুঁটিগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। যেকোনো সময় খুঁটি নদীতে পড়ে বড় ধরনের যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


নদীতীরবর্তী কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর এলাকায় নির্মিত বেড়িবাঁধের কারণে পানির প্রবাহের চাপ দৌলতপুরের দিকে বেড়েছে। তাদের ধারণা, এর প্রভাবেই এ অংশে নদীর স্রোত ও ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। তবে বেড়িবাঁধের সঙ্গে বর্তমান ভাঙনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


পদ্মাপাড়ের মানুষের কাছে নদীভাঙন নতুন কোনো ঘটনা নয়। বর্ষা এলেই তাদের মধ্যে ফিরে আসে ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারানোর আতঙ্ক। নদীর বুকে নতুন চর জেগে উঠলে সেখানে কৃষিকাজ ও বসতি গড়ে ওঠে। কিন্তু কয়েক বছর পর সেই চরও ভাঙনের মুখে পড়ে। এভাবেই একেকটি পরিবার বারবার হারাচ্ছে তাদের বসতভিটা ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন।


এর আগে দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় ও কোলদিয়াড় এলাকাতেও ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে ক্ষতির মুখে পড়েন বহু কৃষক। ভাঙন ঠেকাতে তখন জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।


বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ভাঙন তীব্র হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি, পুনর্বাসন এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।


স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত নদীশাসন ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে শুধু কৃষিজমি নয়, বসতবাড়ি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের জীবন-জীবিকাও বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

সারাদেশে নিয়ে আরও পড়ুন

সারাদেশে নিয়ে আরও পড়ুন



অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।

সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |

স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।