

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। বন্যার পানি বাড়তে থাকায় গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গো-খাদ্যের সংকট।
বন্যা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তবে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। বন্যার্তদের প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবন খোলা রাখা হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাক আহাম্মেদ বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আপাতত বিদ্যালয়ে না আসার জন্য বলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি পাঠদান বন্ধ থাকবে। তবে বিদ্যালয়ের ভবনগুলো খোলা রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে পানিবন্দি মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন।
পাউবো সূত্র জানায়, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে নদীর পানি প্রায় ৬৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ১২ দশমিক ৮৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ৯২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। পানি বাড়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে দৌলতপুরের নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
ইতোমধ্যে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। চিলমারী, ফিলিপনগর, মরিচাসহ কয়েকটি এলাকার সড়ক ও যোগাযোগপথ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।
পানির নিচে চলে গেছে নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি। এতে রোপা আমন ধান, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বাড়ির আশপাশে পানি চলে আসায় গবাদিপশু নিরাপদে রাখার জায়গা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। পাশাপাশি গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ কয়েকটি পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
পদ্মার পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আগেই নিরাপদ আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও গবাদিপশুর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।