

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা ম|মুনুল হক বলেছেন, শুধু কাগজে-কলমে কমিটি গঠন করলেই সংগঠন শক্তিশালী হয় না; প্রতিটি কমিটিকে সক্রিয় রাখতে নিয়মিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। কর্মী ও সাংগঠনিক শক্তির প্রকৃত হিসাব জানতে হলে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম ও সক্রিয় জনশক্তির হিসাব নিতে হবে।
আজ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার জাতীয় গ্রন্থাগার অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত থানা প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আল্লামা ম|মুনুল হক বলেন, সংগঠনের প্রকৃত শক্তি সম্পর্কে নিজেদের কাছে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। কাগজে-কলমে সদস্যসংখ্যা বাড়িয়ে বা বড় সমাবেশের উপস্থিতিকে অতিরঞ্জিত করে দেখলে সংগঠনের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায় না। কর্মী শুধু খাতায় থাকার বিষয় নয়, কর্মীকে মাঠে সক্রিয় থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে ‘কাজীর গরু খাতায় আছে, গোয়ালে নেই’—এ ধরনের প্রবণতা পরিহার করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করার পাশাপাশি বহির্মুখী কার্যক্রমও চালাতে হবে। এ জন্য প্রতিটি শাখাকে নিয়মিত চারটি কাজ—দাওয়াতি মজলিস, ইজতেমা-দাওয়াত, হালকা তালিম ও ইসলাহী মজলিস—বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর বলেন, কমিটি গঠনের পাশাপাশি প্রতিটি জনশক্তিকে কাজের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। কাজের মাধ্যমেই কর্মী তৈরি হয়, কর্মী সচল থাকে এবং সংগঠন কার্যকর থাকে। কোনো কমিটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন ছাড়া শুধু নামের তালিকা হিসেবে থাকবে না—এমন সাংগঠনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
তিনি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের পর ইউনিট পর্যায়েও সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে মসজিদকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিটি কমিটিকে নিয়মিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সক্রিয় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আল্লামা ম|মুনুল হক বলেন, ইসলাহী মজলিসগুলোকে বৃহত্তর পরিসরে আয়োজন করে মাসিক ইজতেমা হিসেবে পরিচালনা করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে জনশক্তির মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সংগঠন নিয়ে মতবিনিময় এবং নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রমের পরিবেশ তৈরি হবে। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তরের ২৬টি থানা থেকে তরবিয়তি সফরের কাফেলা বের করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতার পাশাপাশি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কাঠামো শক্তিশালী করার কাজও একসঙ্গে চালিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে গণমুখী সংগঠনে পরিণত করতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের সামনে সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে আল্লামা ম|মুনুল হক ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত সম্মেলনের সফলতার জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের ধন্যবাদ জানান এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের অগ্রগতি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন রাজী। যৌথভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুরশিদ সিদ্দিকী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ আমিন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লা আমিন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজ; সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী ও মাওলানা ফয়সল আহমাদ; কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান কাসেমী এবং যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক, মাওলানা আবুল কাশেম মিয়াজী, মুফতি রুহুল আমিন কাসেমী, মাওলানা আব্দুল কাদের সিরাজী ও মাওলানা শামসুল আলম; সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ নাটোরে ও মাওলানা সাঈদ আহমাদ; অফিস সম্পাদক জনাব এইচ এম খোকন; বাইতুল মাল সম্পাদক মাওলানা মো. সাইফুল্লাহ; সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা জারীর আহমাদ; নির্বাহী সদস্য মাওলানা নাঈমুল হক আজিজ, মাওলানা গাজী মাসউদুর রহমান, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল হাই, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি আদনান রাফি এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শাহ আহমাদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।