home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


লংমার্চের রাজনীতি নয়, সংকটে দায়িত্বশীল ভূমিকা চাই রাজপথে এক সুর, সংসদে ভিন্ন সুর—দুমুখী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন সচেতন মহলে

আজিজুল হক
আজিজুল হকসিনিয়র কলামিস্ট

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৫

Facebook
Twitter

লংমার্চের রাজনীতি নয়, সংকটে দায়িত্বশীল ভূমিকা চাই রাজপথে এক সুর, সংসদে ভিন্ন সুর—দুমুখী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন সচেতন মহলে

আজিজুল হক সাংবাদিক ও কলামিস্ট 


জাতীয় কোনো সংকট দেখা দিলে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব শুধু রাজপথে কর্মসূচি দেওয়া নয়; সংকটের বাস্তবসম্মত সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করা এবং জনগণের স্বার্থে গঠনমূলক ভূমিকা রাখাও গণতান্ত্রিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনেকের প্রশ্ন—সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার পরিবর্তে লংমার্চ, মিছিল-মিটিং ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করাই কি এখন প্রধান লক্ষ্য?
একদিকে রাজপথে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য, অন্যদিকে সংসদে গিয়ে বলা—“এই সংকট বর্তমান সরকারের সৃষ্টি নয়।” এমন বিপরীতমুখী বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলের দায়িত্ব হলো সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরা, জনগণের দাবি সংসদে উপস্থাপন করা এবং প্রয়োজন হলে বিকল্প সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া। কিন্তু কোনো সংকটকে কেন্দ্র করে শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হলে তার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয় সাধারণ মানুষ।
আর এখানেই তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় ব্যঙ্গের জায়গা।
রাজপথে যদি বলা হয়—সরকারই সব সমস্যার জন্য দায়ী;
তাহলে সংসদে গিয়ে কেন বলা হবে—সমস্যাটি সরকারের সৃষ্টি নয়?
তাহলে জনগণের কাছে প্রশ্ন থেকেই যায়—কোন বক্তব্যটি সত্য?
নাকি রাজপথের বক্তব্য এক শ্রেণির শ্রোতার জন্য, আর সংসদের বক্তব্য আরেক শ্রেণির শ্রোতার জন্য?
এ ধরনের রাজনৈতিক ‘দুই ভার্সন’ জনগণের কাছে দিন দিন হাস্যরসের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। কারণ বর্তমান সময়ের সচেতন নাগরিকরা শুধু স্লোগান শুনতে চান না; তারা বক্তব্যের সঙ্গে বক্তব্যের মিল এবং রাজনীতির সঙ্গে দায়িত্বশীলতার সামঞ্জস্য দেখতে চান।
লংমার্চ করা সহজ, মিছিল করা সহজ, মঞ্চে দাঁড়িয়ে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দেওয়াও সহজ। কিন্তু সংকটের সময়ে বাস্তব সমাধান দেওয়া এবং জনগণের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরীক্ষা।
সরকারের ভুল থাকলে তার সমালোচনা অবশ্যই হবে। কিন্তু সমালোচনার পাশাপাশি সমাধানের পথও দেখাতে হবে।
কারণ বিরোধিতা মানেই সরকারের প্রতিটি কাজে বাধা দেওয়া নয়; বরং যেখানে জাতীয় স্বার্থ জড়িত, সেখানে মতপার্থক্য বজায় রেখেও জনগণের স্বার্থে সহযোগিতা করা দায়িত্বশীল রাজনীতির পরিচয়।
সচেতন মহলের প্রত্যাশা—লংমার্চের রাজনৈতিক প্রদর্শনী কিংবা পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে রাজনৈতিক দলগুলো।
জনগণ এখন আর শুধু “কে কাকে দোষ দিল” সেটি দেখতে চায় না।
জনগণ দেখতে চায়—কে সংকটে পাশে দাঁড়াল, কে সমাধানের পথ দেখাল এবং কে নিজের বক্তব্যের প্রতি সৎ থাকল।
শেষ প্রশ্ন
রাজপথে এক কথা, সংসদে আরেক কথা—তাহলে জনগণ বিশ্বাস করবে কোন বক্তব্যটি?
সচেতন জনগণ এখন লংমার্চের নাটক নয়, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি দেখতে চায়।

রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন



অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।

সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |

স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।