দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
প্রতিবেদক: নতুন দৃষ্টি নিউজ ডেস্ক

তেহরান, ৯ মার্চ ২০২৬ – টানা সামরিক হামলায় বিপর্যস্ত ইরান যেন তার অস্তিত্ব রক্ষার সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় তেহরানের চেহারা পুরোপুরি পাল্টে গেছে। ধ্বংসযজ্ঞ, কালো ধোঁয়া আর চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে দেশটির সাধারণ মানুষ।
সাম্প্রতিক হামলায় তেহরান এবং এর আশেপাশের এলাকার (যেমন- কারাজ, শাহরান) বহু তেলডিপো ও জ্বালানি স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে তেহরানের আকাশ। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, দিনের বেলাতেও সূর্যের আলো ঠিকমতো পৌঁছাতে পারছে না। বাতাসে পোড়া তেলের গন্ধ এবং বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য শ্বাস নেওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
নেতৃত্বের পর্যায়েও চরম সংকটে পড়েছে ইরান। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, তার ছেলে মুজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সম্প্রচারে তাকে 'জানবাজ' (যুদ্ধে আহত বা আত্মোৎসর্গকারী) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিশ্চিত করে যে সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে তিনিও গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করার লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, "ইসলামি আদর্শবাদী বিভ্রান্তিতে আক্রান্ত কোনো উন্মাদ রাষ্ট্রকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।"
এদিকে, বিভিন্ন সূত্রমতে মার্কিন স্পেশাল ইউনিট 'ডেল্টা ফোর্স' ইরানের ভূগর্ভস্থ সেন্ট্রিফিউজ এবং বিপজ্জনক পারমাণবিক পদার্থগুলো পুনরুদ্ধার বা ধ্বংস করার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়ার কারণেই ইতিহাসের এই নির্মম পরিণতি বরণ করতে হচ্ছে। আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া বা তিউনিশিয়ার পর এবার এই ধ্বংসের তালিকায় ইরানের নামও লিপিবদ্ধ হতে যাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়।
ভূ-রাজনৈতিক অনেক বিশ্লেষকের মতে, বিশ্বের প্রধান পরাশক্তিগুলোর মূল লক্ষ্যই হলো অন্য কোনো রাষ্ট্রকে এই চূড়ান্ত শক্তির অধিকারী হতে না দেওয়া (যেমনটি ওসামা বিন লাদেনও চেয়েছিলেন বলে কন্সপিরেসি থিওরি রয়েছে)। এখানে শিয়া-সুন্নি বিভেদ মুখ্য নয়, বরং ক্ষমতার একক আধিপত্য বজায় রাখতেই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। রেজিম চেঞ্জের যে শঙ্কা করা হচ্ছে, তা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন








