দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
প্রতিবেদক: নতুন দৃষ্টি নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রত্নতত্ত্ব ও বিজ্ঞান
আজ থেকে প্রায় ১৭ শতাব্দী আগের কথা। মেক্সিকোর প্রাচীন তিওতিউয়াকান (Teotihuacan) শহরের এক নারী হাসছেন, আর তার হাসিতে ঝিলিক দিয়ে উঠছে সবুজ রঙের মূল্যবান পাথর। এটি কোনো রূপকথা নয়, বরং প্রাচীন মায়া সভ্যতার এক অবিশ্বাস্য চিকিৎসা বিজ্ঞানের বাস্তব নিদর্শন। সম্প্রতি প্রত্নতাত্ত্বিকদের গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে এমন এক তথ্য, যা আধুনিক কসমেটিক ডেন্টিস্ট্রিকেও হার মানায়।
গবেষকরা তিওতিউয়াকান শহরে একটি প্রাচীন সমাধি খননকালে এক নারীর কঙ্কাল উদ্ধার করেন, যার সময়কাল ধরা হয়েছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ খ্রিস্টাব্দ। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, ওই নারীর ওপরের পাটির একটি দাঁতের মাঝখানে নিখুঁতভাবে বসানো ছিল একটি উজ্জ্বল সবুজ 'জেড' (Jade) পাথর। প্রায় ১,৭০০ বছর পার হলেও পাথরটি দাঁতের সাথে একইভাবে আটকে আছে।
মায়া সভ্যতার চিকিৎসকরা আজকের যুগের দন্তচিকিৎসকদের মতোই দক্ষ ছিলেন। গবেষণায় দেখা গেছে, তারা দাঁতের এনামেল ফুটো করে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে এই পাথর বসাতেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অস্ত্রোপচারের সময় দাঁতের ভেতরের নরম মজ্জা বা নার্ভের কোনো ক্ষতি হতো না। ফলে দাঁতটি মরে যেত না বা সংক্রমিত হতো না। আধুনিক বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, পাথরটি আটকানোর জন্য তারা এক ধরনের বিশেষ উদ্ভিদ-ভিত্তিক আঠা বা রেজিন ব্যবহার করত, যা একইসাথে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী হিসেবেও কাজ করত।
মায়া সংস্কৃতিতে 'জেড' পাথর ছিল অত্যন্ত পবিত্র এবং আভিজাত্যের প্রতীক। গবেষকদের মতে, দাঁতে পাথর বসানো ছিল তৎকালীন সমাজের উচ্চবিত্ত বা অভিজাত শ্রেণির একটি পরিচয়। এটি মূলত তিনটি কারণে করা হতো:
মায়ারা শুধু বিশাল পিরামিড বা নির্ভুল ক্যালেন্ডার তৈরির জন্যই বিখ্যাত ছিল না, তাদের বায়োমেডিক্যাল জ্ঞানও ছিল প্রখর। দাঁতের ফুটো করার জন্য তারা সম্ভবত পাথরের তৈরি ড্রিল ব্যবহার করত। তাদের ব্যবহৃত প্রাকৃতিক আঠা আজও গবেষকদের কাছে এক রহস্য। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, ১৭০০ বছর আগেই মানুষ কসমেটিক সার্জারি এবং দন্তচিকিৎসায় কতটা অগ্রসর ছিল।
এই একটি মাত্র 'জেড দাঁত' আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রাচীন সভ্যতাগুলো কেবল পাথর আর মাটির গল্প নয়, বরং তারা ছিল বিজ্ঞান ও শিল্পের এক অনন্য মিশেল। আজ সেই প্রাচীন প্রযুক্তি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসকে নতুন করে লিখতে বাধ্য করছে।
অন্যান্য নিয়ে আরও পড়ুন








