নতুন দৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
মহাকালের নীরব বার্তাবাহক— লেখক: আরমান হোসেনবিধাতার অলঙ্ঘ্য দান ও মহাকালের মহাপ্রয়াণ স্মরণ করিয়া অশ্রুসিক্ত নয়নে ও রুদ্ধকণ্ঠে সেই পরম করুণাময় বিধাতাকে স্মরণ করিতেছি, যাঁহার নিগূঢ় ইশারায় এই অন্ধকারময় মায়াপুরী আবর্তিত হইতেছে। এই নশ্বর সংসার যেন এক নিশ্ছিদ্র অন্ধকার প্রকোষ্ঠ, যেখানে বিধাতার অমোঘ নিয়মাবলী আমাদিগকে আষ্টেপৃষ্ঠে আবদ্ধ করিয়া রাখিয়াছে। মায়ার কুহক ও ছলনার আবরণে আমাদের অন্তরে যে রহস্যময় জ্বালা বিদ্যমান, তাহা যেন এক অলীক স্বপ্নরাজ্যে আমাদিগকে প্রতিনিয়ত ক্রীড়াপুত্তলিকার ন্যায় নৃত্য করাইতেছে।যুগ যুগ ধরিয়া এই ভুবনমাঝে একই নিয়ম বহমান। এই মহাজাগতিক রহস্যের কিনারা করিবার বাসনায় কত বিনিদ্র রজনী অতিবাহিত করিয়াছি, কতবার যে বুদ্ধির অগম্য সেই বিধাতার অজেয় বিধানের সম্মুখে পরাভূত হইয়াছি, তাহার ইয়ত্তা নাই। তিনি কেমন করিয়া এই ক্ষুদ্র মানবহৃদয়ে অসীম আকুলতা সঞ্চার করিলেন এবং তাহাকে অনুভবের চরম পরিপক্বতায় উপনীত করিলেন—ইহা ভাবিতে গিয়া আমি নির্বাক হইয়াছি। পরিশেষে ভক্তিচিত্তে এইটুকুই লিখিলাম—এ সমস্তই সেই করুণাময় বিধাতার দান।হে মুসাফির, এই দুদিনের ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী পরিত্যাগ করিয়া আমাদিগকে একদিন মহাশূন্যে বিলীন হইতে হইবে। আমরা এই পার্থিব হাটে কত কর্মের সওদা করিলাম, কত তুচ্ছ মোহে মত্ত হইয়া উদরপূর্তি করিলাম; কিন্তু হে বিধাতার সৃষ্ট নগণ্য প্রাণ, তুমি কি এই ভুবন ছাড়িয়া পলায়ন করিতে পারিবে? যদি গন্তব্য সেই অন্ধকার কবরের নিস্তব্ধতা হয়, তবে কেন এই ক্ষণভঙ্গুর মায়ার প্রাসাদ আপন মনে নির্মাণ করিতেছ? কেন তুমি মৃত্যুর সেই চিরন্তন ও ধ্রুব বার্তাকে বিস্মৃত হইতেছ? কেনই বা সেই কালরূপী দূতকে দূর করিবার বৃথা চেষ্টা করিতেছ? হে মানব, তোমার নিকট কি এই জীবন-মরণের কোনো প্রকৃত সমাধান আছে?পৃথিবীর এই অলঙ্ঘ্য ললাটলিখন ও নিয়মনীতির চরণে মস্তক অবনত করিয়া, হে জগৎধাত্রী, তোমার শ্রীচরণে হস্ত রাখিতেছি। এই বিশাল ধরণীমাঝে সেই পরম পালনকর্তা ব্যতীত আর কোনো আশ্রয়দাতা নাই। হে খোদার গূঢ় রহস্যের বাহক, তোমার প্রতি আমার অন্তরে বিন্দুমাত্র ক্ষোভ নাই। কেবল একটি জিজ্ঞাসা রহিয়া গিয়াছে—কেন তুমি মানবমনে মৃত্যুর সেই দূতকে কেন্দ্র করিয়া এমন সংকীর্ণতা ও ভীতির সঞ্চার করিলে? যিনি নিখিল বিশ্বের রিজিকদাতা, তাঁহার মহিমা তো তুমি একাকীই প্রচার করিতে পারিতে; তবে কেন এই মরণভয়কে মানুষের নিত্যসঙ্গী করিলে?হে মহান অদেয় বাহক, তোমার চরণে ভক্তি রাখিয়া তোমার মনের নিগূঢ় সংবাদ জানিবার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করিতেছি। তুমি কি তোমার আপন স্বর্গীয় রূপেই সেই মৃত্যুর বার্তাবাহককে প্রেরণ কর? না কি মানবের পাপবিদ্ধ চক্ষু তাহাকে ভয়ংকর রূপে দর্শন করে? মানবহৃদয়ে বিরাজমান সকল সংকীর্ণতা, জল্পনা ও কল্পনা তুমি অপসৃত করিয়া দাও। শুনিতে পাই, সেই বার্তাবাহক দিবানিশি তোমারই পবিত্র মহিমা কীর্তন করে এবং তোমারই অলঙ্ঘ্য আজ্ঞায় মানবের নশ্বর দেহ হইতে প্রাণপাখি ছিন্ন করিয়া লয়। সে তো কেবল সেই বরকতদাতার আদেশ পালনে একনিষ্ঠ দাস মাত্র।হে পরমেশ্বর, তুমিই প্রাণের সঞ্চার করিয়াছ এবং তুমিই তাহার লয়ের জন্য যমদূত সৃষ্টি করিয়াছ। তথাপি কেন এই মানবজাতি মৃত্যুর নামে শিহরিয়া উঠে? কেন এই অন্তহীন ভয়? দয়া করিয়া আমাদের মনের সকল অন্ধকার ও বিভ্রম দূর করিয়া দাও। তুমি যে জগতের প্রতিটি স্পন্দন ও কলরবে বিরাজমান, তাহা আমাদের স্থূল বুদ্ধিতে অনুভবযোগ্য করিয়া দাও। জগতের সকল মানবের তরে মৃত্যুর সেই দূতের আগমনকে এক প্রশান্তিময় ও স্বর্গীয় স্বপ্নের ন্যায় করিয়া দাও, যেন আমরা ভয় নহে—বরং তোমারই মিলনের পরম লগ্ন বলিয়া তাহাকে আলিঙ্গন করিতে পারি।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
ফোন : 01715248243, 01577581026, ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com