৭ জানুয়ারি ২০২৬
preview
ধারাবাহিক উপন্যাস “নিখোঁজ ফাইল” পর্ব-৩

নতুন দৃষ্টি নিউজ ডেস্ক

নিশাচর সিরিজ

ধারাবাহিক উপন্যাস “নিখোঁজ ফাইল” পর্ব-৩

সাদিয়া হোসাইন

অন্ধকারের ফাঁদগুদামের ভেতরের দরজাটা বন্ধ হতেই শব্দটা কানে বাজল—লোহার উপর লোহার আঘাত। শব্দটা শুধু দরজা বন্ধ হওয়ার ছিল না, মনে হচ্ছিল কেউ ইচ্ছা করেই আমাকে জানিয়ে দিল, ফেরার পথ নেই।আমি চারপাশে তাকালাম। বিশাল গুদাম, ছাদের কিছু অংশ ভাঙা, সেখান দিয়ে চাঁদের আলো ঢুকছে। আলো-ছায়ার খেলায় মনে হচ্ছিল দেয়ালগুলো নড়ছে। ডি–১৭ ফাইলটা আমি বুকের সাথে চেপে ধরলাম।“তুমি একা নও।”কোথা থেকে যেন কণ্ঠটা ভেসে এলো।আমি ধীরে ধীরে পেছনে ঘুরলাম। কাউকে দেখা যাচ্ছে না। শুধু কয়েকটা পুরনো কাঠের বাক্স, মরিচা ধরা লোহার সিঁড়ি, আর এক কোণে টেবিলের ওপর রাখা একটি বাতি।“লুকিয়ে কথা বলার দরকার নেই,” আমি বললাম।“যদি কিছু বলার থাকে, সামনে এসে বলো।”এক মুহূর্ত নীরবতা। তারপর ছায়া থেকে একজন বেরিয়ে এলো। বয়স আন্দাজ করা কঠিন। মুখে হালকা দাড়ি, চোখে অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস।“রাহাত খান,” সে বলল,“আপনি যতটা ভাবছেন, এই কেস তার চেয়েও ভয়ংকর।”“মাহিন কোথায়?”আমি সরাসরি প্রশ্ন করলাম।লোকটা হেসে ফেলল।“আপনি ভুল প্রশ্ন করছেন। প্রশ্ন হওয়া উচিত—মাহিন এখনো বেঁচে আছে কিনা।”আমার মাথার ভেতর যেন কিছু একটা ভেঙে গেল। মাহিন শুধু একজন সোর্স না—এই কেসের একমাত্র মানুষ, যে পুরো সত্যটা জানে।আমি এক পা এগোলাম।“তুমি আমাকে এখানে ডেকেছ কেন?”সে টেবিলের ওপর রাখা বাতিটা জ্বালাল। আলো জ্বলে উঠতেই দেখি—টেবিলের ওপর ডি–১৭ ফাইলের কিছু পাতা ছড়িয়ে আছে। কিন্তু সেগুলো আমি যেগুলো পেয়েছিলাম, সেগুলো না।“এই ফাইল অসম্পূর্ণ,” সে বলল।“আপনার কাছে যেটা আছে, সেটাও অসম্পূর্ণ।”আমি চুপ করে রইলাম।“ডি–১৭ তিন ভাগে ভাগ করা,” সে বলতে থাকল।“এক ভাগ আপনার কাছে। এক ভাগ মাহিনের কাছে ছিল। আর শেষ ভাগ… এমন কারো কাছে, যাকে আপনি এখনো চেনেন না।”“আর তুমি?”আমি জিজ্ঞেস করলাম।সে একটু হাসল।“আমি শুধু মধ্যস্থ।”ঠিক তখনই বাইরে থেকে গাড়ির ব্রেকের শব্দ। একটার পর একটা। আলো এসে পড়ল গুদামের ভাঙা জানালা দিয়ে।লোকটার চোখ বদলে গেল।“সময় শেষ,” সে ফিসফিস করে বলল।“আপনি এখন দুইটা পথের সামনে।”“কী পথ?”আমি জানতে চাইলাম।“এক—এই ফাইল পুলিশের হাতে তুলে দেবেন। তাহলে মাহিনের আর কোনো খোঁজ পাবেন না।দুই—আমার সাথে আসবেন। তাহলে আপনি সত্য জানবেন… কিন্তু বিপদও আপনার পিছু ছাড়বে না।”গুদামের দরজায় ভারী বুটের শব্দ। কেউ আসছে। অনেক মানুষ।আমি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলাম।ডি–১৭ ফাইলটা আবার বুকের সাথে চেপে ধরলাম।“তুমি আমাকে আগে মাহিনের কাছে নিয়ে যাবে,” আমি বললাম।“না হলে এই কেস এখানেই শেষ।”লোকটা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর মাথা নেড়ে বলল,“ঠিক আছে, রাহাত খান। কিন্তু মনে রাখবেন—এই সিদ্ধান্তের পর আর পিছনে ফেরার সুযোগ নেই।”দরজার অন্য পাশে কেউ চিৎকার করে বলল,“ভেতরে কেউ আছে! দরজা ভাঙো!”লোকটা গুদামের পেছনের ছোট দরজার দিকে ইশারা করল।আমি দৌড় দিলাম। অন্ধকার সরু পথ, ভেজা মাটি, আর মাথার ভেতর শুধু একটাই চিন্তা—মাহিন কি এখনো বেঁচে আছে?নাকি আমি অনেক দেরি করে ফেলেছি?পেছনে দরজা ভাঙার শব্দ।আর সামনে—অজানা অন্ধকার।চলবে…


সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |

ফোন : 01715248243, 01577581026, ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com