নতুন দৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
নীলফামারী প্রতিনিধি,নাঈম ইসলাম নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বালাপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক অচলাবস্থা এখন চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নেমে এসেছে স্থবিরতা। অভিযোগ উঠেছে, এই সুযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতায় ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। প্রত্যয়ন পত্র পেতেই দুর্ভোগ বিদ্যালয় সূত্র ও ভুক্তভোগী অভিভাবকদের অভিযোগ, একটি সাধারণ চারিত্রিক বা শিক্ষাগত প্রত্যয়ন পত্র সংগ্রহ করতেও দিনের পর দিন বিদ্যালয়ে ঘুরতে হচ্ছে। একজন অভিভাবক জানান, তার সন্তানের শিক্ষাগত প্রয়োজনে প্রত্যয়ন পত্র নিতে গিয়ে তিনি একাধিকবার বিদ্যালয়ে আসলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। আবার উপস্থিত থাকলেও নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি সাধারণ প্রত্যয়ন পত্র পেতেই যদি কয়েক দিন ধরে ঘুরতে হয় এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দরজায় দরজায় ধরনা দিতে হয়, তাহলে এই বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ কী—তা সহজেই অনুমেয়।” প্রশাসনিক স্থবিরতায় ব্যাহত পাঠদান অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত একক সিদ্ধান্তে পরিচালিত হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে— প্রত্যয়ন পত্র ও টিসি (ছাড়পত্র) প্রদানে অযৌক্তিক বিলম্ব অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ শুনতে অনীহা এই প্রশাসনিক গাফিলতির প্রভাব পড়েছে শ্রেণিকক্ষেও। তদারকির অভাবে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, অনেক শিক্ষকও পাঠদানে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে নীলফামারীর এই পুরনো ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ধীরে ধীরে মুখ থুবড়ে পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের দাবি, অবিলম্বে বালাপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে একজন যোগ্য ও নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা হয়রানি ও অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার ও ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও অবনতির দিকে যাবে, যার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
ফোন : 01715248243, 01577581026, ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com