২ নভেম্বর ২০২৬
preview
প্রশিক্ষণ নেই, ড্রাগ লাইসেন্সও নেই—গ্লাভস ছাড়াই শিশুকে ইনজেকশন! কুকরি-মুকরীতে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করেন ইব্রাহিম

রেদওয়ান, জেলা প্রতিনিধি

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কুকরি-মুকরী ইউনিয়নের হাজীপুর এলাকায় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নামে ওষুধ প্রদান ও ইনজেকশন প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাজারের এক ব্যবসায়ী ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে। তাঁর পিতার নাম মৃত বশার বলে জানা গেছে।


স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ বা স্বীকৃত যোগ্যতা ছাড়াই ইব্রাহিম রোগী দেখেন, বিভিন্ন রোগের ওষুধ দেন এবং ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


অভিযোগকারীদের দাবি, চুলকানির সমস্যায় আক্রান্ত এক নারী ও শিশুকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই দাউদ বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের মলম দেওয়া হয়েছিল। এ জন্য তাঁদের কাছ থেকে অর্থও নেওয়া হয়। তবে ব্যবহারের পরও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তাঁরা পরবর্তী সময়ে চরফ্যাশনে চিকিৎসা নেওয়ার কথা ভাবেন।


এ ছাড়া একটি শিশুকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই সেফট্রিয়াক্সোন (Ceftriaxone) ইনজেকশন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুর নিরাপত্তা এবং চিকিৎসাসেবায় যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


শুধু তাই নয়, চিকিৎসাসেবার সময় স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ইনজেকশন বা ক্যানুলা দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা, জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম ও হাতের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ভিডিওতে যথাযথ সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা যায়।


এ বিষয়ে আরেকজন অভিভাবক নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, তাঁর শিশুর ঠান্ডাজনিত সমস্যায় এক ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিকসহ কয়েকটি সিরাপ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আবার অন্য কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। আগের ওষুধ বন্ধ করার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর দাবি, পরবর্তী সময়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং তাকে কোমায় যেতে হয়। তবে এ ঘটনার সঙ্গে ওষুধের সম্পর্ক চিকিৎসা নথি ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।


এদিকে, স্থানীয়দের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা ভিডিও, মেসেঞ্জার কথোপকথনের স্ক্রিনশট এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।


সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ


স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা বিষয়টি তদন্ত করে ইব্রাহিমের চিকিৎসা-সংক্রান্ত যোগ্যতা, ওষুধ বিক্রির বৈধতা এবং রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার অনুমোদন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।


এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।


তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইব্রাহিমের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।


সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |

ফোন : 01715248243 (Whatsapp), ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com