২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
preview
কিশোরগঞ্জে শৈত্যপ্রবাহ: সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ও জনজীবনে প্রভাব

নতুন দৃষ্টি নিউজ ডেস্ক

চীফ, রিপোর্টার আজিজুল হক  শীত মৌসুমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলাজুড়ে অনুভূত হচ্ছে শৈত্যপ্রবাহের প্রকট প্রভাব। বিশেষ করে হাওরবেষ্টিত নিকলি, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম অঞ্চলে শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ও সাম্প্রতিক শীত মৌসুমে কিশোরগঞ্জে দেশের অন্যতম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিমাপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের নিকলি উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ওই সময় সারাদেশে রেকর্ড হওয়া সর্বনিম্ন তাপমাত্রাগুলোর একটি। একইভাবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে নিকলিতে তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা শৈত্যপ্রবাহের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, যখন কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসে, তখন সেটিকে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। কিশোরগঞ্জে একাধিকবার এই সীমার নিচে তাপমাত্রা নামায় অঞ্চলটি শৈত্যপ্রবাহের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় পড়ে। শৈত্যপ্রবাহের কারণ,বিশেষজ্ঞরা জানান, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে বয়ে আসা শীতল বায়ুপ্রবাহ, ঘন কুয়াশা এবং রাতের দীর্ঘস্থায়ী আর্দ্রতা কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। হাওর এলাকার খোলা জলাভূমি রাতের ঠান্ডা ধরে রাখায় ভোর পর্যন্ত তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কম থাকে। তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ। ভোরের দিকে কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষের জন্য শীত বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া—ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে, কৃষি খাতে বোরো বীজতলা ও শীতকালীন সবজির ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে,শীতজনিত রোগে শিশু ও বয়স্কদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে করণীয় ও প্রস্তুতি-বিশেষজ্ঞরা শীতপ্রবাহ চলাকালে গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ জোরদারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে কুয়াশাপ্রবণ সড়কগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জে শীতের তীব্রতা ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ডও নিচের দিকে নামছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভবিষ্যতে শৈত্যপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। তাই আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত উদ্যোগই পারে শীতজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে।


সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |

ফোন : 01715248243, 01577581026, ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com