৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
preview
কোরআন অবমাননার দায়ে নিহত পীরের মরদেহ ফের দরবারে স্থাপন, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি

মোঃ জাহিদ তানভীর আজাদ, জেলা প্রতিনিধি।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। দাফনের দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস পর কথিত পীর মো. আব্দুর রহমান ওরফে শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর কালান্দার বাবার মরদেহ কবর থেকে তুলে তার নিজস্ব দরবারে পুনরায় স্থাপন করেছেন ভক্তরা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতের আঁধারে এই ঘটনা ঘটে।


এর আগে গত ১১ এপ্রিল ফিলিপনগর ইউনিয়নে শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ ওঠে। এর জেরে বিক্ষুব্ধ জনতা সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায় এবং গণপিটুনিতে তিনি নিহত হন। পরবর্তীতে ১৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই মো. ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।


নিহতের মৃত্যুর পর থেকেই তার অনুসারী ভক্তরা কবর থেকে মরদেহ তুলে দরবারে নেওয়ার পাঁয়তারা করে আসছিল। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দাফনের পর কিছুদিন কবরস্থানে পুলিশি পাহারাও রাখা হয়েছিল। তবে সব সতর্কতা উপেক্ষা করে শুক্রবার রাতে ভক্তরা গোপনে মরদেহ তুলে দরবারে নিয়ে পুনঃস্থাপন করে।


নিহতের ভাই মো. ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, রাতের আঁধারে কারা ও কীভাবে কবর থেকে মরদেহ তুলে দরবারে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে পরিবার সম্পূর্ণ অন্ধকার রয়েছে। সকালে বিষয়টি দেখে পুলিশকে অবহিত করা হয়।


দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।


দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। উচ্চ মহলের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


মরদেহ উত্তোলনের এই আকস্মিক ঘটনায় পুরো এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। থমথমে পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা এখন প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।


সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |

ফোন : 01715248243 (Whatsapp), ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com