৬ আগস্ট ২০২৬
preview
রুহিয়ায় জমি বিক্রি ও বন্ধকের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মোঃ আহসান হাবিব

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় জমি বায়নামা ও বন্ধক (রেহান) রাখার কথা বলে সাধারণ মানুষের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং জমি রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোঃ আতিকুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি রুহিয়া থানার মধুপুর গ্রামের মোঃ হাসিম উদ্দীনের ছেলে।ভুক্তভোগীদের দেয়া অভিযোগপত্র ও চুক্তিপত্রের তথ্যানুযায়ী, আতিকুল ইসলামের প্রতারণার শিকার হয়েছেন ঘনিবিষ্ণুপুর গ্রামের মোঃ ফজলুল করিমের দুই ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম (৩০) ও মো: রশিদুল ইসলাম (৩৮)। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও অর্থ উদ্ধারে রুহিয়া থানায় পৃথক অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় প্রেস ক্লাবেও লিখিত আবেদন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, পারিবারিক সমস্যার কথা বলে গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আতিকুল ইসলাম তার বসতবাড়ির ৩.৭৫ (পৌনে চার) শতক জমি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রির চুক্তি করেন। মধুপুর মৌজার এস.এ খতিয়ান নং- ৫৬৬ এবং দাগ নং- ৫৯৪-এর অন্তর্ভুক্ত এই জমির জন্য ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত বায়নামাপত্র করা হয়। ৩ মাসের মধ্যে জমি রেজিস্ট্রি করার শর্তে শহিদুল ইসলাম নগদ ৪ লাখ টাকা প্রদান করেন। বাকি ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারিত ঐ তারিখ থেকে আগামী ৩ মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রির ধার্য দিনে রেজিস্ট্রির সময় প্রদান করা হবে। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও আতিকুল ইসলাম জমি রেজিস্ট্রি না দিয়ে বিভিন্ন ছলঢাতুরীর আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে গত ২৭ জুন ২০২৬ তারিখে শহিদুল স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আতিকুলের বাড়িতে গিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করার তাগিদ দিলে আতিকুল জমি রেজিস্ট্রি দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং হুমকি-ধামকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। এ বিষয়ে গত ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রুহিয়া উপজেলা মডেল প্রেস ক্লাবেও একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী। অন্যদিকে, শহিদুলের বড় ভাই মোঃ রশিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ১৬ জুন ২০২৩ তারিখে পারিবারিক সংকটের কথা জানিয়ে আতিকুল ইসলাম তার ১৭ শতক জমি ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত ভাবে ৯৫ হাজার টাকায় তার কাছে বন্ধক (রেহান) রাখেন। শর্ত অনুযায়ী রশিদুল ১ বছর ধরে ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছিলেন। কিন্তু ১ বছর পর আতিকুল ইসলাম মৌখিকভাবে জানান যে, উক্ত জমি তিনি অন্য একজনকে দিয়েছেন। পরবর্তীতে গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখে রশিদুল ইসলাম বন্ধকি টাকা ফেরত চাইলে আতিকুল ইসলাম টাকা ফেরত দেবেন না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। স্থানীয় এলাকাবাসি সুত্রে জানা যায়, আতিকুল ইসলাম ঐ জমি বাবদ একাধিক মানুষের কাছে টাকা নিয়েছে। এখন এই জমি কাকে রেখে কাকে দিবে এটাই মুল বিষয়। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে আতিকুল ইসলাম টাকা লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমরা বিষয়টি পারিবারিকভাবে বসে সমাধান করে নেব। ১নং রুহিয়া ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন তহিরুল এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হইলে তিনি এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয় নি। রুহিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদিউজ্জামান জানান, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |

ফোন : 01715248243 (Whatsapp), ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com