সামজাদ জসি, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।
জনস্বার্থের কথা বলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নে শুরু হওয়া ‘স্বেচ্ছাশ্রমে’ খাল খনন কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনুমোদিত খালের সীমানা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী নদী এবং পানির নিচে তলিয়ে থাকা ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনস্বার্থের আড়ালে এটি ব্যক্তিস্বার্থ ও বাণিজ্যের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অরুয়াইল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সড়াকান্দি খাল ও সীমানা খাল** স্বেচ্ছাশ্রমে এবং ব্যক্তি উদ্যোগে খননের জন্য আবেদন করেন অরুয়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল হক এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টি নেতা মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। গত সপ্তাহে জনস্বার্থে ও নিয়ম নীতি অনুসরণের প্রত্যাশায় সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনুষ্ঠানিকভাবে এই খননকাজের উদ্বোধন করেন।
তবে উদ্বোধনের পরপরই বদলে যায় দৃশ্যপট। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনিক উদ্বোধনের পর পরই নির্ধারিত খালের পরিবর্তে পার্শ্ববর্তী **চেত্রা নদীতে** এক্সক্যাভেটর (ভ্যাকুয়াম) বসিয়ে মাটি কাটা শুরু হয়। নদীর অংশ ও খালের সীমানা তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো মাটি কাটা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রামবাসী।
বর্তমানে ভরা বর্ষায় সড়াকান্দি খালের ওপর প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট পানি রয়েছে। নদী ও পার্শ্ববর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত থাকায় খালের দৃশ্যমান কোনো অস্তিত্ব বা সীমানা চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। এমন অবস্থায় কীভাবে খালের অবস্থান নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করে খননকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালের নাম ব্যবহার করা হলেও মূলত অধিক লাভের আশায় পানির নিচে থাকা নিচু ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। এক্সক্যাভেটর দিয়ে তলদেশের মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করার পাঁয়তারা চলছে। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে আগামী মৌসুমে ওই সকল কৃষিজমিতে চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় কৃষকেরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছেন।
অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হলে স্থানীয়রা সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানান। তবে অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন খননকাজের উদ্যোক্তারা। তাদের দাবি, তারা নদীর সীমানায় কোনো খননকাজ করছেন না এবং নিয়মনীতি মেনেই সড়াকান্দি খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন: যেখানে ১০-১২ ফুট পানির নিচে সবকিছু তলিয়ে আছে, সেখানে খাল আর ফসলি জমি আলাদা করার কোনো সুযোগ নেই। খাল খননের নামে মূল উদ্দেশ্য হলো ভ্যাকুয়াম দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করা। প্রশাসনিক অনুমোদনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই অনিয়ম চালানো হচ্ছে।
খাল খননের নামে ব্যক্তি স্বার্থসিদ্ধির এই অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অরুয়াইল ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
ফোন : 01715248243 (Whatsapp), ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com