Md Ahasun Habib
ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া থানার ঘনিমহেষপুর এলাকায় একটি বিলুপ্ত সমবায় সমিতির নাম ব্যবহার করে আদিবাসী ও সাধারণ মানুষের পৈত্রিক ও খরিদা জমি দখলের অপচেষ্টা এবং ভুয়া মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একটি জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে। আইন ও আদালতের একাধিক রায় প্রকৃত মালিকদের পক্ষে থাকা সত্ত্বেও, জেলা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার অনৈতিক যোগসাজশে একটি অস্তিত্বহীন সমিতির ভুয়া কমিটি অনুমোদন দিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) রুহিয়ার ঘনিমহেষপুরে নুরেশ দাস এর বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ওয়েল দাস। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ঘনিমহেষপুর এলাকার '৭৪৬ নং ঘনিমহেষপুর বহুমুখী জনকল্যাণ কৃষি সমবায় সমিতি'টি ১৯৭৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪০ বছর কোনো বৈধ কার্যক্রম না থাকায় সমবায় অধিদপ্তরের ৩০/১০/২০১৪ তারিখের আদেশ মূলে অনেক আগেই বিলুপ্ত ও নিষ্পত্তি করা হয়। এমনকি ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট উপজেলা সমবায় অফিসার লিখিতভাবে জানান যে, এই কথিত সমিতির কোনো বৈধ অস্তিত্ব নেই। অভিযোগ করা হয়েছে, সমিতির কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও ২০২২ সালে মূল মালিক বীরবল হাজরা ও অন্যান্যদের পৈত্রিক ও খরিদা সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করার উদ্দেশ্যে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে একটি পকেট কমিটি গঠন করে। বিবাদী পক্ষ ও তাদের পূর্বপুরুষেরা মূলত হাজরা (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) সম্প্রদায়ের লোক হওয়া সত্ত্বেও, তারা জালিয়াতির উদ্দেশ্যে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে অন্য ধর্মীয় মানুষের নিকট জমি বিক্রি করছেন। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭(৭) ধারা মোতাবেক, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা আদিবাসীদের সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্ব অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও, বিবাদী পক্ষ কোনো প্রকার বৈধ অনুমতি বা দলিল ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই নালিশী সম্পত্তি দাবি করছে। ভুক্তভোগীরা জানান, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা ধারাবাহিকভাবে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। বাদী থমাস দাসের দায়েরকৃত ১৪৪/১৪৫ ধারার মামলার প্রেক্ষিতে ফৌজদারি রিভিশন মোকদ্দমাটি (নং-১৪৪/২০২৩) গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালত নামঞ্জুর করেন। এছাড়া প্রতিপক্ষের তৈরি করা অবৈধ ও ভুয়া ৭৩২ নং খতিয়ানটি সার্বিক তদন্ত ও শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাতিল করেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আদালতে আপিল (নং ৫২/২০২৪) করলেও চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল বিজ্ঞ আদালত তা সম্পূর্ণ নামঞ্জুর করে দেন। পরবর্তীতে নালিশী ভূমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কঠোর আদেশ প্রদান করেন। সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, আইনি লড়াইয়ে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়ে প্রতিপক্ষ বিগত সরকারের আমলে জমিগুলো একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের নামে ৫ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ করে সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। দেশের পটপরিবর্তনের পর, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা নতুন করে আরেকটি প্রভাবশালী মহলকে ব্যবহার করে জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, আইন এবং আদালত সম্পূর্ণভাবে প্রকৃত মালিকদের পক্ষে থাকা সত্ত্বেও, ঠাকুরগাঁও জেলার বর্তমান জেলা সমবায় অফিসার জাহাঙ্গীর আলম ও উপজেলা সমবায় অফিসার রমজান আলী ক্ষমতার চরম অপব্যবহার ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে এই বিলুপ্ত সমবায় সমিতির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে একটি ভুয়া কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, গত ২৭ জুন ওই বিতর্কিত জমির উপর সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বার্ষিক সাধারণ সভা করা হয় এবং সেখানে ভুয়া কমিটিকে উপ-আইন সংশোধনী নিবন্ধন সনদপত্র (সংশোধিত নিবন্ধন নং ০২, তারিখ: ২৫/০৬/২০২৬ইং) প্রদান করেন জেলা সমবায় অফিসার। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন পক্ষপাতদুষ্ট ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই প্রতারক ও জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহোদয়ের রায় বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা এবং জেলা সমবায় অফিসারের দেওয়া অবৈধ ও ভুয়া কমিটি অনতিবিলম্বে বাতিলের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
ফোন : 01715248243 (Whatsapp), ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com