আব্দুল বাছির সা'দী
الحمد لله وكفى وسلام على عبادہ الذي اصطفى. أما بعد فاعوذ بالله من الشيطان الرجيم ، بسم الله الرحمن الرحيم وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ [آل عمران: ١٠٤] وعن أَبي سَعِيدٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ». صحيح مسلم (١/ ٦٩)
শুরুর কথা: বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে। গোটা দেশ বুঁদ হয়ে আছে খেলার নেশায়। কাফেরদের পতাকায় ছেয়ে গেছে শাহজালালের পবিত্র বাংলার পূণ্যভূমি। বেইমানদের জার্সি ও পতাকা হাতে মাতলামিতে মেতে ওঠেছে মুসলিম যুব সমাজ। জুয়া, বেটিং ও মাদক সেবনসহ নানান অবৈধ কর্মকাণ্ড চলছে উৎসবমুখর পরিবেশে। নির্ঘুম রাত্রি যাপন, স্বাস্থ্যের ক্ষতি, অর্থের ক্ষতি, সময়ের অপচয়, গুনাহ ও পাপাচার সবকিছুই খুশিমনে মেনে নিচ্ছে সবাই। শিক্ষিত বলি আর অশিক্ষিত, কেউই এই উন্মাদনা থেকে আলাদা নয়।
এই মুহূর্তে একজন ইমানদার ও মুমিনের কাজ হবে-এসব গুনাহ আর আর খোদার নাফরমানি থেকে জাতিকে সর্তক করা। কারণ, একজন ইমানদার ও মুমিন খোদার এসব নাফরমানি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না। বরং তার সামনে খোদার নাফরমানি ও গুনাহের কাজ সংঘটিত হলে অবশ্যই সে সামর্থ্যের আলোকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। এটি একজন মুমিনের অপরিহার্য দায়িত্ব। মুমিন যদি তার এই দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা করে, তাহলে তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহর শান্তি ও জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা শুধু আলেম সমাজের দায়িত্ব নয়, বরং প্রত্যেক ইমানদার-যিনি নিজেকে মুসলিম বলে পরিচয় দেন, সকলের এই দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধ থেকেই আজকে আমরা বিশ্বকাপ উন্মাদনা ও আমাদের করণীয় বিষয়ে কিছু আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ।
গুনাহের কাজে বাধা না দিলে আল্লাহ গজব নাজিল হয়
মুহতারাম হাজিরিন! যদি আমরা গুনাহের পথ বন্ধ করার চেষ্টা না করি, গুনাহের কাজ থেকে জাতিকে সর্তক না করি, 'নাহি আনিল মুনকার' না করি, তাহলে আমাদের সকলকেই আল্লাহর আজাবের সম্মুখীন হতে হবে। কারণ, গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিকে বাধা না দিলে আল্লাহর আজাব এসে গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের সাথে যারা অন্যায় কাজে বাধা প্রদান করেনি, তাদেরকেও ধ্বংস করে দেয়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা এমন একটি ঘটনা উপদেশ হিসেবে আমাদের জন্য রেখে দিয়েছেন। দাউদ আ. এর উম্মতের ঘটনা। দাউদ আ. এর উম্মতের জন্য শনিবার দিন বিশেষভাবে ইবাদতের জন্য নির্ধারিত ছিল। এই দিনে জীবিকা উপার্জনমূলক সকল কাজ তাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। তারা সাগরের উপকূলে বসবাস করতো। তাদের জীবিকা নির্বাহের প্রধান পেশা ছিল মাছ শিকার করা। এদিকে শনিবার দিন সাগরের মাছগুলো একেবারে কিনারে চলে আসত। এ দিনে মাছ শিকার নিষিদ্ধ থাকায় তারা প্রথমে বিভিন্ন কৌশলে মাছ আটকে রেখে রবিবার দিন সেগুলো শিকার করতো। কিন্তু কিছুদিন পর শনিবার দিনেই মাছ শিকার শুরু করে দেয়।
তারা যখন মাছ শিকার করে আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়ে পড়ল, তখন একদল মানুষ তাদেরকে 'নাহি আনিল মুনকার' করল। অন্যায় কাজ করতে বাধা প্রদান করল। আর আরেকদল সুশীল মানুষ যারা 'নাহি আনিল মুনকার' থেকে বিরত থাকল। শুধু তাই নয়, রবং তারা উল্টো দায়িদের বলতে লাগল-নিষেধ করার কী দরকার? আল্লাহর অবাধ্যতা করলে আল্লাহই বিচার করবেন। তোমাদের ওয়াজ করার কী দরকার? পবিত্র কুরআনে তাদের কথা বর্ণনা করে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَإِذْ قَالَتْ أُمَّةٌ مِنْهُمْ لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا اللهُ مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا قَالُوا مَعْذِرَةً إِلَى رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ} [الأعراف: ١٦٤] 'এবং (তাদেরকে সেই সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দাও) যখন তাদেরই একটি দল (অন্য দলকে) বলেছিল, তোমরা এমনসব লোককে কেন উপদেশ দিচ্ছ, যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করে ফেলবেন, কিংবা কঠোর শাস্তি দিবেন? তারা বলল, (আমরা এটা করছি) তোমাদের প্রতিপালকের নিকট দায়মুক্ত হওয়ার জন্য এবং (এ উপদেশ দ্বারা) হতে পারে, তারা তাকওয়া অবলম্বন করবে।' সুরা আরাফ: ১৬৪
আল্লাহ তায়ালার এই নাফরমানির পর যখন শাস্তি আসা শুরু হলো, তখন কেবল যারা 'নাহি আনিল মুনকার' করেছিল, তারাই রক্ষা পেয়েছে। আর বাকি দুই দল, যারা সরাসরি পাপে লিপ্ত ছিল এবং যারা 'নাহি আনিল মুনকার' করেনি, উভয়দলকে আল্লাহ তায়ালা অভিশপ্ত বানরে পরিণত করে দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ أَنْجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُوا بِعَذَابٍ بَئِيسٍ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ (١٦٥) فَلَمَّا عَتَوْا عَنْ مَا نُهُوا عَنْهُ قُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ } [الأعراف: ١٦٥، ١٦٦]
'তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তা যখন তারা ভুলে গেল, তখন অসৎকাজে যারা বাধা দিচ্ছিল, তাদেরকে তো আমি রক্ষা করি। কিন্তু যারা সীমালংঘন করেছিল, উপর্যপুরি অবাধ্যতার কারণে তাদেরকে এক কঠোর শাস্তি দ্বারা আক্রান্ত করি। সুতরাং তাদেরকে যে কাজ নিষেধ করা হয়েছিল, তারা যখন তার বিপরীতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করল, তখন আমি তাদেরকে বললাম-ঘৃণিত বানর হয়ে যাও।' সুরা আরাফ: ১৬৫-১৬৬
তাই, আমাদেরকে সমাজের প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। সেই অপরাধ ব্যক্তিগত উদ্যেগে হোক বা সামাজিকভাবে হোক অথবা রাষ্ট্রীয় কিংবা আন্তর্জাতিক আয়োজনে হোক, প্রতিটি অন্যায় আর খোদার নাফরমানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব।
এখানে সুশীল সেজে মুখে কুলুপ এটে থাকার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, অন্যায় কাজ দেখে প্রতিবাদ না করা, অন্যায়কে ঘৃণা না করা অন্যায়কে সমর্থন করার শামিল। এজন্য যখন নাফরমানদের ওপর শাস্তি আর আজাব এসেছে, তখন এসব সুশীলদেরকেও অপরাধীদের সাথে শান্তি দিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
উলামায়ে কেরামের বিষেশ দায়িত্ব
গুনাহের কাজ থেকে জাতিকে সতর্ক করা উলামায়ে কেরামের বিশেষ দায়িত্ব। তারা জবানের মাধ্যমে, ওয়াজ-নসিহতের মাধ্যমে উম্মাহকে গুনাহের কাজ থেকে বারণ করবেন। এই দায়িত্ব পালনে ব্যত্যয় ঘটলে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। হজরত মুয়াবিয়া রা. হজের সফরে মদিনায় কিছু লোককে অন্যের চুল ব্যবহার করতে দেখেন। মদিনার সমাজে খোদার এই নাফরমানির এই চিত্র দেখে তিনি প্রথমে উলামাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন। উলমাদের লক্ষ্য করে সেদিন তিনি বলেছিলেন-
يَا أَهْلَ الْمَدِينَةِ، أَيْنَ عُلَمَاؤُكُمْ؟
'হে মদিনাবাসী! কোথায় তোমাদের আলেম সমাজ।' (তারা কেন এই পাপ কাজে বাধা প্রদান করছে না?)
সহিহ বুখারি: ৩৪৬৮
তাই, সমাজে কোনো গুনাহের কাজ হলে সর্বপ্রথম আলেম-উলামাদের দায়িত্ব হলো-এসব বিষয়ে জাতিকে সতর্ক করা।
বিশ্বকাপ ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ
ফুটবল খেলা মৌলিকভাবে হারাম নয়। যদি এতে শরিয়তের কোনো বিধান লঙ্ঘন না হয়, পাশাপাশি এতে যদি হারাম কোনো কিছু যুক্ত না হয়, তাহলে ফুটবল খেলতে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি এতে শরিয়তের কোনো বিধান লঙ্ঘন হয় বা হারাম কোনো জিনিস এতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, তখন আর তা জায়েজ থাকে না। বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে শরিয়তের অনেক হুকুম লঙ্ঘন হয় এবং এতে অনেক হারাম বিষয় সম্পৃক্ত হয়েছে। নিম্মে আমরা বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে শরিয়তের যেসব হুকুম লঙ্ঘন হয় এবং যেসব হারাম বিষয় সংযুক্ত হয়েছে, এর কিছু বিবরণ তুলে ধরছি-
১. সতর খোলা থাকা: পুরুষের সতর নাভী হতে হাটু পর্যন্ত। কোনো পুরুষের জন্য অন্য কোনো পুরুষের
সতর তথা নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত শরীরের কোনো অংশ দেখা হারাম। মহিলার জন্যও পরপুরুষের এই অংশে দৃষ্টি দেওয়া হারাম। বিশ্বকাপ ফুটবলে সব খেলোয়ারদের হাটুর ওপরের অনেক অংশ খোলা থাকে, যা সতরের অন্তর্ভুক্ত। তাই, তাদের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হারাম। হাদিস শরিফে এসেছে, নবিজি সা. বলেন-لَا يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ، وَلَا الْمَرْأَةُ إلى عَوْرَةِ الْمَرْأَةِ، وَلا يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ فِي ثَوْبِ وَاحِدٍ، وَلَا تُقْضِي الْمَرْأةُ إلَى الْمَرْأَةِ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ.
'কোনো পুরুষ অন্য কোনো পুরুষের সতরের দিকে একেবারেই তাকাবে না এবং কোনো মহিলা অন্য কোনো মহিলার সতরের দিকে একেবারেই তাকাবে না। তেমনিভাবে কোনো পুরুষ অন্য কোনো পুরুষের সাথে একই কাপড়ের নিচে অবস্থান করবে না এবং কোনো মহিলা অন্য কোনো মহিলার সাথে একই কাপড়ের নিচে অবস্থান করবে না।' সহিহ মুসলিম: ৩৩৮
২. নগ্নতা, অশ্লীলতা ও পতিতাবৃত্তির সয়লাব বিশ্বকাপ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় মিস ওয়ার্ল্ডকাপ নামে সুন্দরী নারী প্রতিযোগিতা। খেলায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলো থেকে একজন করে সুন্দরী বাছাই করা হয়। এরপর তাদের মাঝে হয় চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। যে নির্বাচিত হয়, তাকে বিশ্বকাপের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং বেশ কিছু খেলার সময় অর্ধ উলঙ্গ ও নগ্নভাবে প্রদর্শন করা হয়। এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বের বাছাইকৃত নর্তকী ও গায়িকাদের মাধ্যমে নাচ-গান করানো হয়।
অন্যদিকে বিশ্বকাপ উপলক্ষে পতিতাবৃত্তির সীমা ছাড়িয়ে যায়। যেসব দেশে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে অসংখ্য পতিতা ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার দর্শক-সমর্থকের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে পতিতা সংগ্রহ করা হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে এসব খুবই ভয়াবহ অপরাধ। একজন মুমিনের জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া অনেক পরের কথা! পর নারীর প্রতি চোখ তুলে তাকানোরও অনুমতি নেই। আর বিশ্বকাপ দেখতে চাইলে অবশ্যই বেগানা, নগ্ন ও অর্ধ উলঙ্গ নারীদের দিকে তাকাতে হবে, যা সম্পূর্ণ হারাম এবং আল্লাহ তায়ালার আদেশ লঙ্ঘন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ} [النور: ٣٠] 'মুমিন পুরুষদেরকে বল! তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গকে হেফাজতে রাখে; এটিই তাদের জন্য উত্তম। তারা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে অবহিত।' সুরা নূর: ৩০
৩. সময়ের অপচয়: মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে প্রতিদিন ৯০ থেকে ১০০ মিনিটের একটি খেলা থাকে। কোনো কোনো দিন দুটোও থাকে। বাংলাদেশের সময়ে গভীর রাতেও এই খেলা সমপ্রচারিত হয়। অর্থাৎ টুর্নামেন্ট চলা অবস্থায় কী দিন, আর কী রাত! মানুষ সবকিছু ফেলে খেলা নিয়েই মেতে থাকে। এরপর আছে খেলার আগে পরে আলোচনা ও পর্যালোচনা। সব মিলিয়ে কোটি কোটি মানুষের কত কোটি শ্রম-ঘণ্টা যে এর পিছনে নষ্ট হয়, তা বলা বাহুল্য। এভাবে হেলায়-খেলায় সময় নষ্ট করে ফেলা মুমিনের কাজ হতে পারে না। কেননা, মুমিনে প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব আল্লাহ তায়ালার সামনে পেশ করতে হবে। হাদিস শরিফে এসেছে, নবিজি সা. বলেন-لَا تَزُولُ قَدَمُ ابْنِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عِنْدِ رَبِّهِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ، عَنْ عُمُرِهِ فِيمَ أَفْنَاهُ، وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَ أَبْلَاهُ، وَمَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ، وَمَاذَا عَمِلَ فِيمَا عَلِمَ
'কেয়ামত দিবসে পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ হওয়ার আগ পর্যন্ত আদম সন্তানের পদদ্বয় আল্লাহ তায়ালার নিকট হতে সরতে পারবে না। তার জীবনকাল সম্পর্কে, কীভাবে তা অতিবাহিত করেছে? তার যৌবনকাল সম্পর্কে, কী কাজে তা বিনাশ করেছে। তার ধন-সম্পদ সম্পর্কে, কোথা হতে তা উপার্জন করেছে এবং সে যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছিল, সে মুতাবিক কী কী আমল করেছে?' সুনানে তিরমিজি: ২৪১৬, হাসান
মুহতারাম হাজিরিন! বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো! আমাদের দেশ বিশ্বকাপে অংশ্রগ্রহণ করতে না পারলেও দেশের মানুষের বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনার অন্ত থাকে না। বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপ উপলক্ষে ক্লাস বন্ধ ও পরীক্ষা পেছানোর ইতিহাস রয়েছে। অথচ যেসব দেশ খেলায় অংশগ্রহণ করে, সেসব দেশেও খেলার জন্য তাদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে না।
৪. কাফের-বেইমানদের সাথে অগাধ প্রেম ও ভালোবাসা এই বিশ্বকাপে কাফের-বেইমান, যারা
মুসলমানদের চির শত্রু, তাদেরকে আমরা সবচেয়ে আপন ও কাছের মনে করছি। তাদের সাথে বন্ধুত্ব প্রদর্শন করছি। তাদের পতাকা, তাদের জার্সি, তাদের ছবি ঘরে ও দোকানে টানিয়ে তাদের প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা প্রদর্শন করছি! নাউজু বিল্লাহ। বিশ্বকাপ উপলক্ষে কাফেরদের প্রতি ভালোবাসা ও মহব্বতের কিছু নমুনা আপনাদের সামনে পেশ করছি-
ক. পতাকা টাঙিয়ে সমর্থন ও ভালোবাসা প্রদর্শন: খেলা শুরু হওয়ার বেশ আগ থেকেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী
বিভিন্ন দেশের পতাকায় গোটা দেশের বাসা-বাড়ি ও দোকানের ছাদগুলো ছেয়ে গেছে। পতাকা টাঙাতে গিয়ে হতাহতের সংবাদও অনেক সময় পাওয়া যায়। বিশ্বকাপ উপলক্ষে আমাদের দেশে বিভিন্ন দেশের পতাকা টানানোর যে হিড়িক পড়ে, সম্ভবত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী কোনো দেশেও নিজেদের দেশের পতাকার এমন হিড়িক পড়ে না।
অন্যদিকে দেশীয় আইনেও ভিন্ন দেশের পতাকা এভাবে টানানোকে সমর্থন করে না। বাংলাদেশ সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের বিধি ৯-এর ৪ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, 'কোনো বিদেশী পতাকা বাংলাদেশের কোনো ভবন বা গাড়িতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সুনির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া উত্তোলন করা যাবে না।' ৪ নং অনুচ্ছেদের বিধি ৭-এর ৭ ধারায় আরো বলা হয়েছে, 'অন্য কোনো পতাকা বাংলাদেশের পতাকার চেয়ে উঁচুতে উত্তোলন করা যাবে না।' আইনে আরো আছে, 'বাংলাদেশের পতাকা ভিন্ন দেশের পতাকার চেয়ে আকারে ছোট না হতে হবে।' বলাবাহুল্য, বিশ্বকাপ উন্মাদনায় এসব আইনের কোনো তোয়াক্কা করা হয় না।
মুহতারাম হাজিরিন! বড় আফসোসের বিষয়! আজকে আমরা কাফের-বেইমানদের পতাকা উড়িয়ে আনন্দ পাই।
এটা বড়ই মাহরুমির বিষয়। একজন মুসলিম হিসেবে ইসলামের পতাকা সমুন্নত রাখা ও উড্ডীন করার স্বপ্নে বিভোর থাকার কথা ছিল। জীবনের শেষবিন্দু বিসর্জন দিয়ে হলেও কালেমার পতাকা উড়ানোর স্বপ্ন দেখার দরকার ছিল। কারণ, আমরা তো মুসআব বিন উমায়েরের উত্তরসূরী। ইসলামের পতাকা সমুন্নত রাখতে তিনি জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন ওহুদের প্রান্তরে। ইসলামের পতাকার মর্যাদা রক্ষায় তীর ও তরবারির আঘাতে তাঁর শরীর ঝাঁঝরা হয়ে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে তরবারি দিয়ে তাঁর ডান হাত কেটে দেওয়া হয়। সাথে সাথে তিনি বাম হাতে ইসলামের পতাকা তুলে ধরেন। সাথে সাথে বাম হাতটিও কেটে ফেলা হয়। এসময় হাঁটুতে আঁকড়ে বুক ও গলার সাথে পতাকা তুলে রাখেন। তখন দূর থেকে একটি তীর এসে মুসআব বিন উমাইর রা. এর বুকে লাগে। সাথে সাথে তিনি শাহাদাতের কোলে ঢলে পড়েন। একইভাবে মুতার রণাঙ্গনে ইসলামের পতাকাকে সমুন্নত রাখতে হজরত জায়েদ বিন হারেসা, জাফর বিন আবু তালেব ও আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা রা. শরীরের শেষ রক্তবিন্দু জমিনে ঢেলে দেন। আর রাহিকুল মাখতুম: ২৪৭
খ. নিজ দলের জয়ের জন্য মানত করে ফেলা নিজ দলের প্রতি সমর্থন ও ভালোবাসা জানাতে গিয়ে অনেকেই মানত পর্যন্ত করে ফেলে। মুখ ফুটে বলে ফেলে-আমার দল জিততে পারলে এতো টাকা আমি মানত দিব। নাউজু বিল্লাহি মিন জালিক।
আমাদের জানা থাকা দরকার যে, গুনাহের কাজের জন্য মানত করা হারাম। এমন মানত পুরা করা যাবে না।
হাদিস শরিফে এসেছে, নবিজি সা. বলেছেন-مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ، وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَهُ فَلَا يَعْصِهِ. 'যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের কাজে মানত করে, সে যেন তার আনুগত্য করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফারমানি বা অবাধ্যতার মানত করে, সে যেন তা না করে।' সহিহ বুখারি: ৬৭০০
উল্টো এমন মানত করার কারণে মানতকারীর ওপর আবশ্যক হলো-কসমের কাফফারা দেওয়া। হাদিস শরিফে এসেছে, নবিজি সা. বলেছেন-
لَا نَذْرَ فِي مَعْصِيَةٍ، وَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةً يَمِينٍ.
'গুনাহের কাজে মানত করা যাবে না এবং এর কাফফারা হলো-কসম ভঙ্গের কাফফারার অনুরূপ।' সুনানে তিরমিজি : ১৫২৪, সহিহ
আর কসমের কাফফারা হলো-দশজন মিসকিনকে তৃপ্তি সহকারে দুবেলা খাবার খাওয়ানো, অথবা তাদেরকে এক জোড়া বস্ত্র দান করা, অথবা একটি গোলাম আজাদ করা। এগুলোর কোনোটিরই সামর্থ্য না থাকলে লাগাতার
তিনদিন রোজা রাখা। সুরা মায়িদা: ৮৯
গ. নিজ দলের পরাজয়ে আত্মহত্যা করা অনেক সময় নিজের দল পরাজিত হলে বা বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে গেলে আত্মহত্যা পর্যন্ত করে ফেলে। কতো বড় হতভাগা আর দুর্ভাগা হলে এমন কাজ করতে পারে। এটি আপনাদেরকে আমি বানিয়ে বলছিনা! এমন হয়েছে আমাদের দেশে। ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাজে আর্জেন্টিনার শোচনীয় পরাজয়ে ময়মনসিংহের জাকির নামে এক আর্জেন্টাইন ভক্ত ট্রেনের চাকার নিচে শুয়ে আত্মহত্যা করে। ২০০৬ সালে রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপেও ধামরাইয়ে এরকম একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে বাদ যাওয়ায় গোপাল (২৫) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সর্বশেষ ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপেও কুমিল্লায় এমন ঘটনা ঘটেছে। আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র দুমিনিট বাকি ছিল। আর্জেন্টিনার হার মোটামুটি নিশ্চিত, তখন কউসার জাভেদ কাকন (৪০) হার্ট এটাক করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন। আল ইয়াজু বিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সকলকে এমন মৃত্যু থেকে হেফাজত করুন।
মুহতারাম হাজিরিন! এসব থেকে বুঝা যায়-বিশ্বকাপ উপলক্ষে মুমিন-মুসলমানগণ কাফেরদেরকে কতটুকু আপন করে নেয়, তাদের প্রতি কতটুকু ভালোবাসা মুসলমানদের অন্তরে তৈরি হয়! অথচ আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে কাফেরদেরকে বন্ধু বানাতে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاءَ} [المائدة: ٥١]
'হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না।' সুরা মায়েদা: ৫১ অপর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ} [ل عمران: ۲۸]
'মুমিনগণ যেন মুমিনদেরকে ছেড়ে কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে, যে এরূপ করে, আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।' সুরা আলে ইমরান: ২৮
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا بِطَانَةً مِنْ دُونِكُمْ [آل عمران: ۱۱۸]
'হে ইমানদারগণ! তোমরা মুমিন ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না'। সুরা আলে ইমরান: ১১৮
মুহতারাম হাজিরিন! তাই, এসব উন্মাদনা বাদ দিতে হবে। তাদেরকে ভালোবাসা যাবে না। অন্যথায় দুনিয়া ও আখেরাত বরবাদ হয়ে যাবে। এসকল কাফেরদের সাথে হাশরে থাকতে হবে। কারণ, যে যাকে ভালোবাসে, তার সাথেই তার হাশর হবে। হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন-এক ব্যক্তি নবিজি সা. এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল-হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এমন ব্যক্তির ব্যাপারে কী বলেন-যে ব্যক্তি কোনো দলকে ভালোবাসে, কিন্তু সে তাদের মতো না? নবিজি সা. বলেন-
الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ.
'মানুষ যাকে ভালোবাসে, সে (হাশরে) তারই সাথে থাকবে।' সহিহ বুখারি: ৬১৬৯
৫. কাফেরদের অনুকরণ করা আজ মুসলিম যুবকেরা শুধুই যে তাদেরকে সমর্থন করছে, তা নয়, বরং তাদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করছে প্রতিটি পদে পদে। মেসি, নেইমার, রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিন ইয়ামালার মতো সাচ্চা কাফের-বেইমানদেরকে ভালোবেসে, তাদের মতো করে চুল কাটছে, তাদের জার্সি ইত্যাদি তৈরি করে পরিধান করছে। পতাকা থেকে শুরু করে তাদের পোশাক-আশাক, চাল-চলন ইত্যাদিসহ সবকিছুতেই তাদের ছায়া অবলম্বন করছে, যা ইসলামে সুস্পষ্ট নাজায়েজ। কারণ, এতে অমুসলিমদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন ও তাদের অনুকরণ হয়ে যায়। এটি নিষিদ্ধ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَالْمُنَافِقِينَ.
'তোমরা কাফের ও মুনাফেকদের অনুসরণ করো না।' সুরা আহযাব: ৪৮
হাদিস শরিফে এসেছে, নবিজি সা. বলেন-
لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا، لَا تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَلَا بِالنَّصَارَى. 'বিজাতির অনুসরণকারী ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়। তোমরা ইহুদি-নাসারাদের অনুকরণ করো না।' তিরমিজি: ২৬৯৫, হাসান
অন্য হাদিসে এসেছে, নবিজি সা. বলেন- مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ 'যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে।' আবু দাউদ: ৪০৩১, হাসান
৬. কাফের-বেইমান ও ফাসেকের প্রশংসা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে কাফের-বেইমানদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে থাকে আমাদের মুসলিম সমাজ। মেসি, নেইমার, রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিন ইয়ামালাসহ নিজ নিজ সমর্থিত ফুটবলারদের প্রশংসায় প্রতিযোগিতা চলতে থাকে মানুষের মুখে মুখে। অথচ কাফের-বেইমান ও ফাসেকের প্রশংসা করা বৈধ নয়। বরং এ কারণে আল্লাহ তায়ালা রাগান্বিত হন। হাদিস শরিফে এসেছে, নবিজি সা. বলেন-
إِذَا مُدِحَ الْفَاسِقُ غَضِبَ الرَّبُّ. قال الإمام ابن حجر : أخْرَجَهُ أَبو يعلى وَفِي سَندِهِ ضَعْفٌ. 'যখন ফাসেকের প্রশংসা করা হয়, তখন আল্লাহ তায়ালা রাগান্বিত হন।' ফাতহুল বারি: ১০/৪৭৮, জয়িফ
৭. জুয়ার সয়লাব বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে চতুর্দিকে জুয়ার সয়লাব। ব্যক্তিগত, সমাজিক এমনকি
আন্তর্জাতিকভাবে বেটিংয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জুয়াকে অনেকেই ইনকামের উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছে। টেলিভিশনে খেলা দেখতে দেখতে চায়ের দোকানগুলোতে অসংখ্যবার বাজি ধরা হচ্ছে। অনেক দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত বাজিকর প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে অনলাইন বেটিং সংস্থাগুলো রমরমা জুয়া কারবারি করছে। এই জুয়া আর বেটিং-এর লোভে পড়ে অনেকেই সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। আখেরাতের পাশাপাশি দুনিয়াও তাদের শেষ হয়ে যাচ্ছে। এজন্য ইসলাম কঠোরভাবে জুয়াকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ (۹۰) } {إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ 'হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমার বেদি ও জুয়ার তীর অপবিত্র, শয়তানি কাজ। সুতরাং এসব পরিহার কর, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন কর। শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষের বীজই বপণ করতে চায় এবং চায় তোমাদেরকে আল্লাহর জিকির ও নামাজ থেকে বিরত রাখতে। সুতরাং, তোমরা কি (ওসব জিনিস থেকে) নিবৃত্ত হবে'? সুরা মায়েদা: ৯০-৯১
৮. নিজেদের মধ্যে দলাদলি ও শত্রুতা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নিজের মধ্যেই দলাদলি ও হিংসা-বিদ্বেষ
তৈরি হয়। এক দলের সমর্থকরা অন্য দলের সমর্থকদেরকে দেখতে পারে না। আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের সমর্থকদের মাঝে মারামারি ও হতাহতের ঘটনা খবরের পাতায় প্রতিদিনই শিরোনাম হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরকে গালাগালি, অপমান ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা তো আছেই। অথচ ইসলামে এগুলো হারাম করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَى أَنْ يَكُونُوا خَيْرًا مِنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءٍ عَسَى أَنْ يَكُنَّ خَيْرًا مِنْهُنَّ وَلَا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ} [الحجرات: ١١]
'হে মুমিনগণ! কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, তারা (অর্থাৎ যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে) তাদের চেয়ে উত্তম হতে পারে এবং নারীগণও যেন অপর নারীদেরকে উপহাস না করে। কেননা, তারা (অর্থাৎ যে নারীদেরকে উপহাস করা হচ্ছে) তাদের চেয়ে উত্তম হতে পারে। তোমরা একে অন্যকে দোষারোপ করো না এবং একে অন্যকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না।' সুরা হুজুরাত: ১১
মুহতারাম হাজিরিন! বড় আফসোসের কারণ হলো, কাফেরদের পক্ষে সমর্থন দিতে গিয়ে আমরা আরেকজন মুসলিম ভাইকে কষ্ট দিচ্ছি। তার প্রতি জুলম করছি, এর চেয়ে বড় আফসোস আর লজ্জার কারণ হতে পারে না। অথচ আমাদের জন্য নবিজি সা. এর নির্দেশনা হলো-
المُسْلِمُ أَخُو المُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يُسْلِمُهُ.
'মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার ওপর জুলুম করবে না এবং তাকে জালিমের হাতে সোপর্দ করবে না।' সহিহ বুখারি: ২৪৪২
৯. অর্থ অপচয়: বিশ্বকাপকে কেন্দ্র বিশ্বজুড়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়। এটি শুধু আয়োজকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজেও অর্থের অপচয়ের কোনো সীমা থাকে না। এ উপলক্ষে টিভি কেনা। টিভি না থাকলে বিশ্বকাপ উপলক্ষে তো একটি অবশ্যই কিনতে হবে। আর থাকলেও নতুন টিভি লাগবে। এছাড়া পাড়ায় পাড়ায় বড় পর্দায় খেলা দেখার জন্য বড় জায়ান্ট স্ক্রীনে খেলা দেখার আয়োজন এবং ত্রি-মাত্রিক মনিটরের ব্যবস্থা করা, নিজের ছবি দিয়ে ব্যানার-ফ্যাস্টুন বানানো, জার্সি ও বিশাল বিশাল পতাকা বানানোসহ এসব অনর্থক কাজে অর্থের অপচয়ের কোনো সীমা থাকে না।
এ ছাড়া আতশবাজি, পটকাবাজি, নাচ-গান, মিছিল, আনন্দ শোভাযাত্রা ও মাদক সেবন ইত্যাদি কাজে প্রচুর অর্থ খরচ করা হয়। এগুলো স্পষ্টতই ইসরাফ বা শয়তানি কাজ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا} [الإسراء: ۲۷]
'জেনে রেখ! যারা অপ্রয়োজনীয় কাজে অর্থ উড়ায়, তারা শয়তানের ভাই। আর শয়তান নিজ প্রতিপালকের ঘোর
অকৃতজ্ঞ।' সুরা বনি ইসরাইল: ২৭
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ [الأنعام: ١٤١]
'এবং অপচয় করবে না। (মনে রেখ) তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।' সুরা আনআম: ১৪১
সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমার অর্থের মালিক আমি হলেও তা যেখানে ইচ্ছা, যেভাবে ইচ্ছা খরচ করার সুযোগ নেই। হারাম কোনো কাজে অর্থ ব্যয় করলে কঠিন কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তায়ালার সামনে জবাবদিহি করতে হবে। হাদিস শরিফে এসেছে, নবিজি সা. বলেন-
لَا تَزُولُ قَدَمُ ابْنِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عِنْدِ رَبِّهِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ، عَنْ عُمُرِهِ فِيمَ أَفْنَاهُ، وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَ أَبْلَاهُ، وَمَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ، وَمَاذَا عَمِلَ فِيمَا عَلِمَ (سنن الترمذي : ٢٤١٦)
'কেয়ামত দিবসে পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ হওয়ার আগ পর্যন্ত আদম সন্তানের পদদ্বয় আল্লাহ তাআলার নিকট হতে সরতে পারবে না। তার জীবনকাল সম্পর্কে, কীভাবে অতিবাহিত করেছে? তার যৌবনকাল সম্পর্কে, কী কাজে তা বিনাশ করেছে। তার ধন-সম্পদ সম্পর্কে, কোথা হতে তা উপার্জন করেছে এবং সে যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছিল, সে মুতাবিক কী কী আমল করেছে।' সুনানে তিরমিজি: ২৪১৬, হাসান
১০. মানুষের কষ্টের কারণ: বিশ্বকাপ খেলা চলাকালীন নিজেদের দল গোল দিলে বা বিজয়ী হলে শুরু হয়
আরেক কেয়ামত। চতুর্দিকে আতশবাজি, পটকাবাজি, নাচ-গান, মিছিল, হই-হুল্লোড়ের অসহনীয় বিকট আওয়াজে শহরগুলো কেঁপে ওঠে। শব্দদূষণ ও পটকাবাজির বিকট আওয়াজে শিশুদের ঘুম ভেঙে যায়। আতঙ্কিত হয়ে তাদের শরীর কাঁপতে থাকে। এছাড়াও বিকট আওয়াজের কারণে অসুস্থ লোকেরাও অনেক কষ্টের শিকার হয় এবং অনেক আল্লাহর বান্দার ইবাদতে ব্যাঘাত ঘটে।
এভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়াটা যে কতটা অমানবিক, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সম্পূর্ণ হারাম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا} [الأحزاب: ٥٨] 'যারা মুমিন নর ও নারীদেরকে বিনা অপরাধে কষ্ট দান করে, তারা অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।' সুরা আহযাব: ৫৮
অপর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
إِنَّ الَّذِينَ فَتَنُوا الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوبُوا فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَلَهُمْ عَذَابُ الْحَرِيقِ} [البروج: ١٠]
'নিশ্চয়ই যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে নির্যাতন করেছে, তারপর তওবাও করেনি, তাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি এবং তাদেরকে আগুনে জ্বলার শাস্তি দেওয়া হবে।' সুরা বুরুজ: ১০
হাদিস শরিফে এসেছে, নবিজি সা. বলেন-
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلا يُؤْذِ جَارَهُ (صحيح البخاري : ٦٤٧٥) 'যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং কেয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশিকে কষ্ট না দেয়।' সহিহ বুখারি: ৬৪৭৫
আমাদের করণীয়
১. খেলা দেখা ও খোঁজ-খবর রাখা বর্জন করা একজন মুমিন হিসেবে প্রথমে আমাদের কাজ হবে-খেলা দেখা ও খেলার খোঁজ-খবর রাখা ছেড়ে দেওয়া। কারণ, প্রকৃত মুমিন কোনোভাবেই এই বিশ্বপাপের আয়োজনে শরিক হতে পারে না। মুমিন যেকোনো অবস্থাতেই থাকুক, গুনাহ করা তার কাছে মাথায় পাহাড় ভেঙ্গে পড়ার চেয়ে কঠিন মনে হবে। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ قَاعِدٌ تَحْتَ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ، وَإِنَّ الفَاجِرَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَذِّبَابٍ مَرَّ عَلَى أَنْفِهِ. 'মুমিন ব্যক্তি গুনাহকে এতো ভয়ঙ্কর মনে করে, যেন সে একটি পাহাড়ের নিচে উপবিষ্ট আছে, আর সে আশঙ্কা করছে যে, সম্ভবত পর্বতটা তার ওপর ধ্বসে পড়বে। আর পাপিষ্ঠ তার গুনাহগুলোকে মাছির মতো মনে করে, যা তার নাকে বসে আবার চলে যায়।' সহিহ বুখারি: ৬৩০৮
২. নিজের অধীনস্থদেরকে এসব উম্মাদনা থেকে ফিরিয়ে রাখা: আমরা নিজেরাও যেমন এই বিশ্বপাপকে
বর্জন করব, তেমনি আমাদের সন্তানদেরকেও এসব উম্মাদনায় শরিক হতে দেব না। কঠোর হস্তে তাদেরকে বারণ করব। অন্যথায় তাদের কারণে আল্লাহর দরবারে আমাকে জবাবদিহি করতে হবে। কারণ, তারা আমাদের অধীনস্থ। ইচ্ছা করলেই তাদেরকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা যেত। আমার অবহেলার কারণে তারা এসব পাপে
লিপ্ত হয়ে পড়ছে। এজন্য আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। হাদিস শরিফে এসেছে, নবিজি সা. বলেন-كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، الْإِمَامُ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِي أَهْلِهِ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْئُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا ، وَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ 'তোমরা সবাই জিম্মাদার এবং তোমাদের সবাইকে তার জিম্মাদারি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। ইমাম জিম্মাদার,
তাকে তার অধীনস্থদের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। অনুরূপ, ব্যক্তি তার পরিবারে জিম্মাদার। তার দায়িত্ব সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। নারী তার স্বামীর ঘরের জিম্মাদার। তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। অতএব, তোমরা সবাই জিম্মাদার এবং সবাইকে তার জিম্মাদারি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা
হবে।' সহিহ বুখারি: ৮৯৩ আমরা যদি আমাদের স্ত্রী-সন্তানাদি ও পরিবারের লোকদেরকে এসব গুনাহ থেকে বিরত রাখতে না পারি, তাহলে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহিতার পাশাপাশি কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। কারণ, যে ব্যক্তি তার স্ত্রী-সন্তানদের গুনাহ থেকে বিরত রাখে না, তাকে দাইয়ূস বলে। দাইয়ূস জান্নাতে যাওয়া তো দূরের কথা, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তাদের দিকে তাকাবেন না। হাদিস শরিফে এসেছে, নবিজি সা. বলেন-
ثَلَاثَةٌ لَا يَنْظُرُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْعَاقُ لِوَالِدَيْهِ، وَالْمَرْأَةُ الْمُتَرَجَلَةُ، وَالدَّيُّوتُ 'তিন ব্যক্তির দিকে আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন দৃষ্টি দিবেন না-পিতা মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষের বেশধারী নারী, দাইয়ুস অর্থাৎ যে নিজের স্ত্রী-কন্যাকে পাপাচারের সুযোগ দেয় এবং এতে ঘৃণাবোধ করে না।' সুনানে নাসায়ি : ২৫৬২, সহিহ
৩. নাহি আনিল মুনকার করা নিজে, নিজের পরিবারের লোকদেরকে বিশ্বকাপের এই উন্মাদনা থেকে বিরত রাখার পাশাপশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে এই গুনাহের কাজ থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা। তাদের মাঝে 'নাহি আনিল মুনকার' করা। এটি আমাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ হতে অর্পিত দায়িত্ব। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
{ وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [آل عمران: ١٠٤] 'তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা চাই, যারা (মানুষকে) কল্যাণের দিকে ডাকবে, সৎকাজের আদেশ করবে ও মন্দকাজে বাধা দেবে। এরূপ লোকই সফলতা লাভকারী।' সুরা আলে ইমরান: ১০৪
হাদিস শরিফে এসেছে, নবিজি সা. বলেন-
مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ. 'তোমাদের কেউ গর্হিত কাজ হতে দেখলে সে যেন স্বহস্তে (শক্তি প্রয়োগে) পরিবর্তন করে দেয়, যদি তার সে ক্ষমতা না থাকে, তবে মুখ (বাক্য) দ্বারা এর পরিবর্তন করবে। আর যদি সে সাধ্যও না থাকে, তখন অন্তর দ্বারা
করবে, তবে এটা ইমানের দুর্বলতম পরিচায়ক।' সহিহ মুসলিম: ৪৯
৪. বিশ্বকাপের নামে বিশ্বপাপের এ আয়োজনকে অন্তর থেকে ঘৃণা করা: এসব কর্মকাণ্ডে উপস্থিত বা
শরিক তো হওয়াই যাবে না। পতাকা টানানো, জার্সি পরা তো বহুত দূর কী বাত! মনে মনেও এই পাপের আয়োজনের সমর্থন পোষণ করা যাবে না। বরং এর প্রতি অন্তরে ঘৃণা লালন করতে হবে। হাদিস শরিফে এসেছে, নবিজি সা. বলেন-
إِذَا عُمِلَتِ الْخَطِيئَةُ فِي الْأَرْضِ، كَانَ مَنْ شَهِدَهَا فَكَرِهَهَا - وَقَالَ مَرَّةً: «أَنْكَرَهَا» - كَانَ كَمَنْ غَابَ عَنْهَا، وَمَنْ غَابَ عَنْهَا فَرَضِيَهَا ، كَانَ كَمَنْ شَهِدَهَا ( سنن أبي داود : ٤٣٤٥)
'কোনো স্থানে যখন অন্যায় সংঘটিত হয়, তখন সেখানে উপস্থিত ব্যক্তি তাতে অসন্তুষ্ট হলে সে অনুপস্থিতদের মতোই গণ্য হবে (তার গুনাহ হবে না)। আর যে ব্যক্তি অন্যায় কাজের স্থান থেকে অনুপস্থিত হয়েও তাতে সন্তুষ্ট হয়, সে অন্যায়ে উপস্থিতদের অন্তর্ভুক্ত (গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির মতো তারও পাপ হবে)।' সুনানে আবি দাউদ: ৪৩৪৫ হাসান
শেষকথা: আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে গুনাহের এই মহা আয়োজনে শরিক হওয়া থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। গুনাহের প্রতি মুসলিম উম্মাহর অন্তরে ঘৃণাবোধ সৃষ্টি করে দিন। আমাদের এবং সকল মুসলিম উম্মাহর দীন-ইমানকে হেফাজতে রাখুন। দুনিয়া ও আখেরাতে সকল প্রকার কল্যাণের ফয়সালা করুন। আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
ফোন : 01715248243 (Whatsapp), ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com