১০ জুন ২০২৬
preview
সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে প্রবেশ করে অপারেশন পরিচালনা করেছে। এই সেই হামজা মাহমুদ

আব্দুল বাছির সা'দী

এই সেই হামজা মাহমুদ। যে লেবানিজ যুবক গতকাল সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে প্রবেশ করে অপারেশন পরিচালনা করেছে।


হামজার গ্রামের বাড়ি দক্ষিণ লেবাননের মারকাবা গ্রামে। কিন্তু সে বাস করত রাজধানী বৈরুতে।


গত পরশুদিন সে একটা মোটর সাইকেলে চড়ে বৈরুত থেকে যাত্রা শুরু করে। সম্পূর্ণ একা। 


প্রথমে সে দক্ষিণ লেবাননে পৌঁছে একটা উপত্যকায় রাত কাটায়। এরপর শুধুমাত্র নিজের ব্যক্তিগত রাইফেলটা সাথে নিয়ে যাত্রা করে বর্ডারের উদ্দেশ্যে। 


দক্ষিণ লেবাননের ইসরায়েলি চেক পয়েন্টগুলোর কঠোর নিরাপত্তা প্রহরা এড়িয়ে সে দখলকৃত ভূমির একটা সেটলমেন্টে প্রবেশ করে। সেখানে সে ইসরায়েলি সৈন্যদের উপর গুলিবর্ষণ করে।


সৈন্যরা পাল্টা গুলি করলে সে প্রথমে পালিয়ে যায়। তাকে খোঁজার জন্য ইসরায়েল বিশাল অভিযান শুরু করে। তিনটা শহরের এলাকাবাসীকে আন্ডারগ্রাউন্ডে আশ্রয় নিতে বলা হয়। তাকে খুঁজে বের করার জন্য ড্রোন নিয়োগ করা হয়।


শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাদের আক্রমণে সে শাহাদাত বরণ করে। 


ইসরায়েলি ভূমি লক্ষ্য করে রকেট হামলা নিয়মিতই ঘটে। কিন্তু কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে প্রবেশ করা খুবই দুঃসাধ্য একটা কাজ। কয়েক দশকে হয়তো দুই-একবার ঘটে। 


সর্বশেষ ঘটেছিল হামাসের ৭ অক্টোবর অপারেশনের সময়। আর ঘটল গতকাল।


প্রথমে সন্দেহ করা হয়েছিল, অপারেশনটা হয়তো হেজবুল্লাহর। কিন্তু এখন রিপোর্ট আসছে, হামজা মাহমুদের সাথে হেজবুল্লাহর সম্পর্ক নাই। সে নিজের উদ্যোগেই অপারেশনটা চালিয়েছে।


নিজের গ্রামের উপর, মাতৃভূমির উপর ইসরায়েলের অনবরত বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় এটা হয়তো ছিল তার পক্ষ থেকে একটা বার্তা - তোমরা নিজেরাও নিরাপদ না।


অথবা লেবানিজ সরকার যেখানে ইসরায়েলি হামলার মুখে নীরব, সেখানে এটা হয়তো তার পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি এবং লেবানিজদের প্রতি একটা বার্তা - সরকার কিছু না করলেও দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া জনতা ঠিকই রুখে দাঁড়াবে।


সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |

ফোন : 01715248243 (Whatsapp), ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com