আব্দুল বাছির সা'দী
অবশেষে ইরান যুদ্ধ সম্ভতত শেষ হতে যাচ্ছে। এবং যতটুকু নিউজ আসছে, তাতে মনে হচ্ছে, ট্রাম্প অনেকটা অপমানজনক চুক্তিতেই রাজি হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ বেসিক্যালি, ইরান এই যুদ্ধে জয়ী হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।
কয়েক ঘণ্টা ট্রাম্প একটা টুইট করেছে। সেখানে সে নাম ধরে ধরে আঞ্চলিক আরব এবং মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর নেতাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে দাবি করেছে, তাদের মধ্যস্থতায় ইরানের সাথে একটা চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই সেই চুক্তি প্রকাশ করা হবে।
লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, তার টুইটে কোথাও পারমাণবিক কর্মসূচি বা মিসাইল কর্মসূচি নিয়ে কোনো কথা নাই। আছে শুধু হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার কথা।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং বিভিন্ন সাংবাদিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যে চুক্তিটা হতে যাচ্ছে, সেটা এরকম:
লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে, ইরানের ২৫ বিলিয়ন ডলার আনফ্রিজ করা হবে, হরমুজ প্রণালি থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে, ইরানের আশেপাশে থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হবে।
বিপরীতে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দিবে। যদিও ইরানের দাবি অনুযায়ী ইরান এবং ওমান মিলে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে।
অন্যদিকে সব যদি ঠিকঠাক থাকে, আমেরিকা যদি অবরোধ প্রত্যাহার করে, ইরানি অর্থ আনব্লক করে, তাহলে ৩০ দিন পর নিউক্লিয়ার ফাইল নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
অর্থাৎ বেসিক্যালি, যুদ্ধের একেবারে শুরু থেকে ইরান যা যা দাবি করে আসছিল, সেগুলোই থাকতে যাচ্ছে এই চুক্তিতে। যদি আসলেই চুক্তি সম্পাদিত হয়।
কারণ অলরেডি আমেরিকার হকিশ পলিটিশিয়ানরা এর চরম বিরোধিতা করছে, এরকম অপমানজনক চুক্তির কথা বিবেচনা করার জন্য ট্রাম্পকে ধুয়ে দিচ্ছে। এবং ইসরায়েল যদিও প্রকাশ্যে এখনও কিছু বলেনি, পরিষ্কারভাবেই তারাও এটাতে খুশি না।
ফলে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প তার আশাবাদে অটল থাকতে পারবে, নাকি শুক্রবার আসার আগেই পল্টি মেরে আবার ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিতে ফিরে যাবে, বলা মুশকিল।
শোনা যাচ্ছে, ট্রাম্প যে এই চুক্তিতে রাজি হয়েছে, এর পেছনে আরব আমিরাতের বড় ভূমিকা আছে। হ্যাঁ, সেই আরব আমিরাত, যারা যুদ্ধের শুরু থেকে ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
সম্প্রতি ইসরায়েল নেতানিয়াহুর আরব আমিরাত সফরের গোপন সংবাদ ফাঁস করে দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে যে সূক্ষ্ম টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, এটা তারই ফলাফল কি না, সেটা এখনও পরিষ্কার না।
ট্রাম্প এই ধরনের চুক্তিতে রাজি হলেও অবশ্য দীর্ঘমেয়াদে তার উপর ভরসা করা কঠিন। কিন্তু তারপরেও আপাতত যে এই চুক্তিতে রাজি হতে বাধ্য হচ্ছে, সেটাই ইরানের জন্য বিশাল অর্জন।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
ফোন : 01715248243 (Whatsapp), ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com