১১ মে ২০২৬
preview
বিজয়নগরের ৪ লক্ষ ৩৫ হাজার মানুষের জীবন এখন সড়ক দুর্ভোগে বিপর্যস্ত স্বাধীনতার পরও অবহেলিত জনপদ, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

মোহাম্মদ সেলিম, জেলা প্রতিনিধি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার প্রায় ৪ লক্ষ ৩৫ হাজার মানুষের নিত্যদিনের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের নাম এখন ভাঙাচোরা সড়ক। দীর্ঘদিনের অবহেলা, উন্নয়ন বঞ্চনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো আজ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চান্দুরা-চম্পকনগর-সিঙ্গারবিল সড়কের বেহাল চিত্র জনজীবনকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, স্বাধীনতার পর থেকে নানা প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে টেকসই উন্নয়নের ছোঁয়া খুব একটা পায়নি বিজয়নগর। বর্তমানে উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি যেন এক ভয়ঙ্কর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, টানা বর্ষণে সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্বই প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকা অনেক অংশ এখন ছোট খাল কিংবা জলাশয়ের মতো দেখাচ্ছে। এতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৮ থেকে ৯ মাস আগে চান্দুরা থেকে চম্পকনগর পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের জন্য টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে এক থেকে দেড় কিলোমিটার অংশে কিছু কাজ করা হলেও হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় সংস্কার কার্যক্রম। গত তিন থেকে চার মাস ধরে কাজ পুরোপুরি স্থবির থাকলেও কেন বন্ধ রয়েছে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।
চম্পকনগর থেকে সিঙ্গারবিল পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। টুকচানপুর, লক্ষ্মীপুর, আদমপুর, নোয়াগাঁও মোড়, খিঁড়াতলা ও আটকলা এলাকায় অসংখ্য বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু গর্তের দৈর্ঘ্য ৩০ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত। নোয়াগাঁও মোড়ের দক্ষিণ পাশে প্রায় ৩০০ ফুট রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।
খিঁড়াতলা গ্রামের দুটি স্থান বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সেখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে কিংবা সম্পূর্ণভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আটকলা গ্রামের প্রায় ২০০ ফুট রাস্তা এখন ছোট একটি খালের রূপ নিয়েছে। এছাড়া উজির বাড়ির মোড় থেকে সিঙ্গারবিল বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪০০ ফুট সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানা-খন্দক।
পরিবহন চালকরা জানান, প্রতিদিন সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে। বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। অনেক সময় রোগী বহনকারী যানবাহন সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কিংবা অন্যান্য সংকটের চেয়েও বর্তমানে তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সড়ক দুর্ভোগ। প্রতিদিন বাজার, চায়ের দোকান ও জনসমাগমস্থলে মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন একটাই—“রাস্তা কবে ঠিক হবে?”
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী জনগণ জরুরি ভিত্তিতে অন্তত বড় বড় গর্ত ভরাট এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন কাজ বর্ষার পরে হলেও আপাতত চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিজয়নগর উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন,
“টেন্ডারের জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাধারণ মানুষকে আর কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। অন্তত বড় বড় গর্তগুলো দ্রুত ভরাট করে মানুষের চলাচলের স্বাভাবিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।”
বিজয়নগরের লাখো মানুষের প্রত্যাশা—জনদুর্ভোগের এই ভয়াবহ চিত্র বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই জনপদের মানুষকে স্বস্তির পথ উপহার দেবে।


সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |

ফোন : 01715248243, 01577581026, ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com