মোঃ হাবিবুর রহমান খান, জেলা প্রতিনিধি।
টানা ৪ মাসের কঠোর পরিশ্রম আর সাধনার পর মাঠ ভরা সোনালী ধানের দুর্দশা দেখে ফেটে যাচ্ছে কৃষকের প্রাণ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলা বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে বোরো ধান আর কৃষকদের দুর্দশার চিত্র দেখা যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন ছিলো স্থানীয় কৃষকদের। প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২৫ মন ধানের স্বপ্ন দেখলেও মিলছে মাত্র ১১ থেকে ১৭ মন । তবে উৎপাদন যাইহোক বাজারে নায্য দাম না পাওয়ায় আশঙ্কা ও দুশ্চিন্তায় ভুগছেন কৃষকরা। সার, কীটনাশক আর শ্রমিকের মূল্যের তুলনায় ধানের মূল্য একেবারে তলানিতে ঠেকেছে বলে দাবি করেছেন তারা। কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়া আর টানা বৃষ্টির কারণে অনেকের ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে করে শ্রমিকের মূল্য আরো বেশি দিতে হচ্ছেএবং মাঠ থেকে ধান তুলতেও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্তশ হাঁসদা বলেন, আমরা গরীব মানুষ, লোন করে বোরো ধানের আবাদ করেছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে আমাদের কাটা ধানগুলো ডুবে যাচ্ছে। প্রতিদিন গাছ ধানগুলোকে নিচ থেকে উঁচু জায়গায় নিয়ে শুকাতে হচ্ছে। এভাবে শুকানো ধানগুলোর কাঙ্খিত দাম আমরা পাচ্ছি না। তথাপিও কষ্টার্জিত এ ফসল ঘরে তুলতে পেরে কৃষকের মন আনন্দে ভরে উঠছে। কিন্তু বিপত্তি ঘটছে বাজারে এই স্বপ্নের ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার। স্থানীয় কৃষক মজিবর বলেন, বৃষ্টির কারণে কাটা ধানগুলো পানির নিচে ডুবে গেছে। এতে করে ধানগুলোতে গাছ তৈরি হয়েছে। এই গাছওয়ালা ধান আমরা বিক্রি করতে পারছিনা। এতে করে আমাদের লোকসানের পরিমাণ গুনতে হচ্ছে। আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় দ্রুত মাঠের ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। চলতি বছরে জেলার নাচোল উপজেলায় ৭, ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। ধান সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে এনে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চাষীরা। তাদের আশা, সরকার কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিলে উৎপাদনের সুফল ঘরে তুলতে পারবেন তারা।
মোঃহাবিবুর রহমান খান
০১৭৩০৮৩৮২১৬
১০/৫/২৬
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
ফোন : 01715248243, 01577581026, ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com