শহীদুল ইসলাম শরীফ, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।
ঢাকার দোহার উপজেলায় সাধারণ মানুষের প্রোটিনের প্রধান উৎস ডিমের দাম এখন আকাশচুম্বী। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ডিমের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন খুচরা বাজারে ৩০টি ডিমের এক প্যালেট বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা দরে।
সরেজমিনে জয়পাড়া, মেঘুলা ও লটাখোলাসহ বেশ কিছু বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১ টাকা থেকে ১২ টাকা দরে। সেই হিসেবে এক ডজন ডিম কিনতে ক্রেতাদের গুণতে হচ্ছে ১৩২ থেকে ১৪০ টাকা। তবে পাইকারি দোকান থেকে এক প্যালেট (৩০টি) ডিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৩৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহের তুলনায় অনেক বেশি।
কার্তিকপুর বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতা জলিল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাছ-মাংসের দাম তো আগেই নাগালের বাইরে চলে গেছে। এখন আমাদের মতো সাধারণ মানুষের শেষ ভরসা ছিল ডিম। সেটার দামও যদি এভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে, তবে পাতে পুষ্টিকর খাবার তোলা আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে। তার মতো অনেক ক্রেতাই নিয়মিত বাজার তদারকি বা প্রশাসনের সঠিক মনিটরিংয়ের অভাবকে এই লাগামহীন দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী করছেন।
দাম বৃদ্ধির বিষয়ে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারেই দাম চড়া। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে তারা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, মেঘুলা বাজারের আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, তীব্র গরমে খামারে মুরগির উৎপাদন কমে গেছে। এর সাথে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা মূল্যে।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করছেন, দ্রুত বাজার মনিটরিং শুরু না হলে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানই পারে ডিমের বাজারকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
ফোন : 01715248243, 01577581026, ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com