শহীদুল ইসলাম শরীফ, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।
ঢাকা জেলার দক্ষিণ প্রান্তের দুই গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা দোহার, নবাবগঞ্জে ও কেরানীগঞ্জে এখন জনদুর্ভোগের প্রলয় চলছে। একদিকে যানবাহনের জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে রান্নার গ্যাসের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং সেই সঙ্গে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং এই ত্রিমুখী যন্ত্রণায় নাভিশ্বাস উঠেছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও চাকুরিজীবীদের।
গত কয়েকদিন ধরে দোহার ও নবাবগঞ্জের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে, ও জ্বালানি না থাার বিষয়ে মাইকে প্রচার করছে। যাও পাওয়া যাচ্ছে, তার জন্য কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ছোট পরিবহণগুলো চরম বিপাকে পড়েছে। অনেককে বোতল হাতে মাইলের পর মাইল হেঁটেও জ্বালানি সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে। পরিবহনের এই সংকটে নিত্যপণ্যের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, পণ্যবাহী ট্রাক সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় পণ্যের দাম বাড়ছে। স্থানীয় ফিলিং স্টেশন মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদামতো সরবরাহ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বাসাবাড়িতে রান্নার জন্য এই অঞ্চলের মানুষ এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। সরকারিভাবে খুচরা মূল্য ১,৭২৮ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে তা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ। জনসাধারণকে প্রতিটি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১৯০০ থেকে ২০০০ টাকায়। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহারের চেষ্টা করলেও সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট। ফলে নিম্নবিত্তরা বাধ্য হয়ে আবার অস্বাস্থ্যকর লাকড়ির চুলার দিকে ঝুঁকছে।
ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। দিনে-রাতে অন্তত ৬ থেকে ৮ বার লোডশেডিং এখন এই এলাকার নিয়মিত ঘটনা। তীব্র গরমে একদিকে জনজীবন অতিষ্ঠ, অন্যদিকে ঘন ঘন ভোল্টেজ ওঠা-নামায় নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ দামি ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, কল-কারখানার উৎপাদন এবং কৃষকের সেচ ব্যবস্থা, সবই এখন স্থবির। এলাকাবাসীর অভিযোগ, “বিদ্যুৎ কখন আসে আর কখন যায়, তার কোনো ঠিক নেই, পুরোটাই যেন ভেলকিবাজী।” বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম থাকায় তারা শিডিউল অনুযায়ী লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে।
ভুক্তভোগী জনসাধারণ মনে করছেন, সরকারকে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলতে এবং জনমনে অসন্তোষ তৈরি করতে কোনো কুচক্রী মহল বা শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়ভাবে তৎপর রয়েছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পকেট কাটা হচ্ছে সাধারণ মানুষের।
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি চিহ্নিত মহল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। প্রশাসন জানিয়েছে, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করতে চায়, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
দোহার ও নবাবগঞ্জবাসী ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে সরকারের ওপর আস্থা রাখছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসন যৌথভাবে এই ‘ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ’ মোকাবিলায় মাঠে নেমেছে। খুব দ্রুতই জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং জনজীবন আবার স্বস্তিতে ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
ফোন : 01715248243, 01577581026, ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com