শহীদুল ইসলাম শরীফ, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অন্যতম শক্তিশালী ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। দীর্ঘ সময় ধরে রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম, ত্যাগ আর তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে যারা তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন, তাদেরই একজন জনাব আবুল হাসেম বেপারী, সিনিয়র সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, ঢাকা জেলা।
বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জনপদে আবুল হাসেম বেপারীর পক্ষে তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের যে স্বতঃস্ফূর্ত প্রচারণা দেখা যাচ্ছে, তা রাজনীতিতে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জনগণের সাথে গভীর সেতুবন্ধনই তাকে আজ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
আজ আমরা মুখোমুখি হয়েছি এই জননন্দিত নেতার। তাঁর আগামীর পরিকল্পনা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং উপজেলা নির্বাচন নিয়ে তাঁর ভাবনার আদ্যোপান্ত জানতে আমাদের এই বিশেষ আয়োজন।
দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, রাজপথের আন্দোলন এবং প্রতিকূল পরিবেশ পার করে আসা ঢাকা জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হাশেম বেপারী আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজের সেবামূলক মানসিকতা ও রাজনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দলের প্রতি আনুগত্য, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
আবুল হাশেম বেপারী বলেন, "গত ১৭ বছর বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমি এক মিনিটের জন্যও নেতাকর্মীদের ছেড়ে রাজপথ থেকে বিচ্যুত হইনি। ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন-পীড়নের মুখে আমরা কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে নেমেছি। ডিবি অফিসে ফায়ারিংয়ের হুমকি কিংবা দীর্ঘ জেল-জুলুম সবই আমাদের মনোবলকে আরও শক্ত করেছে।" তিনি বর্তমান সময়কে ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করে দেশকে আধুনিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও কোনো সমস্যা দেখছেন না এই নেতা। তিনি বলেন, "আমি এই এলাকার সন্তান। গত ৫০-৫২ বছর ধরে মানুষ আমার আচরণ ও আমলনামা দেখেছে। দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত স্বচ্ছতা ও অতীত ইতিহাস জনগণের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ তাদের সেবক হিসেবে আমাকে বেছে নেবে।"
দলে অনুপ্রবেশকারী ও সুবিধাবাদীদের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, "বিগত সরকারের আমলে যারা সরকারি দলের পরিচয় দিয়ে অপকর্ম করেছে, তারা এখন ভোল পালটে বিএনপিতে ঢোকার সুযোগ খুঁজছে। আমরা এ বিষয়ে সচেতন। নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে কোনো সুবিধাবাদীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।"
দোহারের স্থানীয় সমস্যাগুলো তুলে ধরে তিনি জানান, নির্বাচিত হতে পারলে অবকাঠামো উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং মাদক নির্মূল হবে তার প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে তিনি তদারকি জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, "বেকার সমস্যার সমাধান এবং আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমার মূল উদ্দেশ্য।"
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আবুল হাসেম বেপারী বলেন, "জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং তারেক রহমানের ৩১ দফার ওপর ভিত্তি করে। আমাদের এখন ধৈর্য ধরতে হবে। কোনোভাবেই যেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সামাজিক অপক্ষয় না ঘটে। আমরা যদি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই, তবে আমরা শূন্য। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের চলতে হবে।"
সাক্ষাৎকারের শেষে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তিনি বলেন, "আমি জিয়ার আদর্শের একজন নগণ্য কর্মী। দিন শেষে এটিই আমার বড়ো পরিচয়। আমি সাধারণ মানুষের কাতারে থেকে তাদের জন্য কাজ করতে চাই। এই সেবার মানসিকতা নিয়েই আমি বাকি জীবনটা উৎসর্গ করতে চাই।"
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনগণের সাথে নিবিড় সম্পর্কের ওপর ভর করে আবুল হাশেম বেপারী এখন দোহারের মানুষের সেবায় নতুন এক দিগন্ত উন্মোচনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
ফোন : 01715248243, 01577581026, ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com