১৪ মার্চ ২০২৬
preview
ভেড়ামারায় ৪২ বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন আছে মাত্র ১টির, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।।

মোঃ জাহিদ তানভীর আজাদ, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।

নবায়নহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়িতে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া বা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নিয়ে অবৈধভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই উপজেলায় গড়ে উঠেছে ৪২টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তবে এর মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন রয়েছে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স কিংবা লাইসেন্স ছাড়াই চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নামে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ক্লিনিক মালিকরা বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে কিংবা ওপর মহলকে খুশি রেখে ডাক্তার ও লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তদারকির অভাব, দক্ষ জনবল সংকট এবং ভুল রোগ নির্ণয়ের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এদিকে অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নেই ডিউটি ডাক্তার। অনেক প্রতিষ্ঠানে অদক্ষ নার্স, ওটি বয় ও টেকনিশিয়ান দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নেই স্বাস্থ্য বিভাগের বৈধ লাইসেন্স কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের দৃশ্যমান তদারকি না থাকায় ক্লিনিক মালিকরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।

জানা যায়, একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ক্লিনিক পরিচালনার জন্য হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন বা আয়কর প্রত্যয়নপত্র, ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পরিবেশ ছাড়পত্র, নারকোটিক পারমিট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চুক্তিপত্রসহ বেশ কিছু কাগজপত্র ও অবকাঠামোগত শর্ত পূরণ করতে হয়। এছাড়া একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অন্তত একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও দুজন টেকনিশিয়ান থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) বা এনেস্থেসিয়া বিভাগে কোনো অনিবন্ধিত চিকিৎসক বা ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলায় প্রায় ৭০ শতাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোনো মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নেই। নামমাত্র টেকনিশিয়ান দিয়ে এক্স-রে, ইসিজি, রক্ত সংগ্রহসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এমনকি কিছু প্রতিষ্ঠানে অদক্ষ কর্মীদের দিয়ে প্যাথলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, সেরোলজি ও হরমোন পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ল্যাব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যাদের অনেকেরই এ বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান শাখার তথ্য অনুযায়ী, ভেড়ামারা উপজেলায় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ৪২টি। এর মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করা প্রতিষ্ঠান রয়েছে মাত্র একটি।

এ বিষয়ে উপজেলা ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল খন্দকারের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

তবে সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম বলেন, “এত বেশি নিয়ম-কানুন মানা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। গত দুই বছর বিভিন্ন জটিলতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এটি শুধু ভেড়ামারার সমস্যা নয়, সারা দেশেই একই অবস্থা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি অবগত রয়েছে।”

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নবিহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ রাখার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা রয়েছে। তবে সিভিল সার্জন অফিস থেকে এখনো আপডেট তালিকা আমার কাছে আসেনি। আর ম্যানেজ করে চলার বিষয়টি সত্য নয়।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবৈধ ও নবায়নহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |

ফোন : 01715248243, 01577581026, ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com