১৩ মার্চ ২০২৬
preview
বেঞ্চের বাঁকে স্মৃতি (ছোট গল্প)

নতুন দৃষ্টি নিউজ ডেস্ক

বেঞ্চের বাঁকে স্মৃতি (ছোট গল্প)

লেখক: কিশোর কণিক

প্রতিদিন বিকেলে সোলেমান সাহেব পার্কে এসে একটি পুরোনো কাঠের বেঞ্চে বসেন। তাঁর গায়ে থাকে একটা মলিন কিন্তু পরিষ্কার পাঞ্জাবি। তাঁর চশমার কাঁচের মতো তাঁর স্মৃতিগুলোও কিছুটা ঝাপসা হয়ে এসেছে। তিনি কেবল সামনের শান্ত হ্রদটার দিকে তাকিয়ে থাকেন, যেন পানির ঢেউয়ের ভাঁজে ভাঁজে তাঁর অতীত ভেসে উঠছে। সোলেমান সাহেব নিঃসঙ্গ, তাঁর পরিবার বহু দূরে।

একদিন, একই বেঞ্চের অন্য প্রান্তে একটি তেরো-চৌদ্দ বছরের ছেলে এসে বসল। তার চোখে অদ্ভুত একটা কৌতূহল। ছেলেটার নাম নীল। সে কিছু না বলে বই পড়ছিল। সোলেমান সাহেব অবাক হলেন, ইদানীং তরুণদের হাতে বই খুব কমই দেখা যায়। নীল বই থেকে মুখ তুলে বলল, "দাদু, আপনি প্রতিদিন এই হ্রদের দিকে এভাবে কেন তাকিয়ে থাকেন? কিছু খুঁজছেন?" সোলেমান সাহেব মৃদু হাসলেন। "না, কিছু খুঁজছি না। আসলে, আমি যা হারিয়েছি, তা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছি।"

নীল কৌতুহলী হয়ে আরও প্রশ্ন করল। এরপর থেকে প্রতিদিন বিকেলে তাদের এক নীরব সখ্যতা গড়ে উঠল। সোলেমান সাহেব নীলকে তাঁর জীবনের গল্প শোনাতেন—তাঁর স্ত্রী শিউলির গল্প, যাঁর প্রিয় ফুল ছিল সাদা বকুল। নীল শোনাত তার স্কুল, বন্ধুদের দুষ্টুমি আর কম্পিউটার গেমসের কথা। সোলেমান সাহেবের জগতের একঘেয়েমি ভাঙতে শুরু করল। নীল একদিন সোলেমান সাহেবকে কম্পিউটারে তাঁর পুরনো বন্ধুদের ছবি দেখাল, যা সোলেমান সাহেবের চোখ খুলে দিল। তিনি বুঝলেন, তাঁর স্মৃতি কেবল তাঁর ভেতরেই নয়, বাইরেও ছড়িয়ে আছে। একদিন সোলেমান সাহেবকে নীল একগুচ্ছ সাদা বকুল ফুল দিল। সেই মুহূর্তে সোলেমান সাহেবের মনে হলো, শিউলি আবার ফিরে এসেছে। গল্পটি একটি মানবিক সংযোগ এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রজন্মের ব্যবধান ঘোচানোর বার্তা দেয়। বিকেলের সোনালী আলোতে, প্রজন্মের দূরত্ব মুছে গিয়ে ভালোবাসার বন্ধন গড়ে ওঠে।


সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |

ফোন : 01715248243, 01577581026, ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com