নতুন দৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া | ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বগুড়াশহরের ব্যস্ততম শরীফ উদ্দিন সুপার মার্কেট (সাবেক আলতাফ আলী মার্কেট)। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর এই বিপণিবিতান। কিন্তু এই মার্কেটের ভেতরেই যে শুয়ে আছেন অবিভক্ত পাকিস্তানের এক সময়ের দাপুটে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী বগুড়া, তা জানেন না খোদ স্থানীয়দের অনেকেই। ক্ষমতার দাপট আর বিশাল ঐশ্বর্য যে সময়ের স্রোতে কতটা নশ্বর হতে পারে, তারই এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই অবহেলিত সমাধি।
এক সময় এই মার্কেটসহ আশেপাশের শত শত বিঘা জমির মালিক ছিল বগুড়ার বিখ্যাত নবাব পরিবার। যেখানে আজ রানার প্লাজা দাঁড়িয়ে আছে, সেখানেই ছিল মোহাম্মদ আলীর বিশাল বাসভবন বা প্যালেস। ১৯৬৩ সালে মৃত্যুর পর তাকে তাঁর প্রাসাদের পাশেই সমাহিত করা হয়। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই রাজকীয় প্রাসাদের চিহ্ন মুছে গেছে। বিশাল সম্পত্তি দখল আর বিক্রির ভিড়ে এখন কেবল ছোট দুটি কবর টিকে আছে, যা সংস্কারের অভাবে আগাছায় ঢেকে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এক সময় কবরের চারপাশ ঘেরা থাকলেও এখন সেই দেয়াল ভেঙে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। কবরের ওপর ফুলের গাছের জন্য তৈরি করা জায়গাগুলোতে এখন কেবল আগাছার রাজত্ব। মার্কেটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা এই কবরের ওপর দিয়েই যাতায়াত করছেন, অথচ তারা জানতেই পারছেন না এটি কোনো সাধারণ মানুষের কবর নয়। স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, অচিরেই হয়তো এই জায়গাটুকুও দখল হয়ে দোকানপাটে পরিণত হবে।
এক নজরে মোহাম্মদ আলী বগুড়া (১৯০৯-১৯৬৩)
মোহাম্মদ আলী বগুড়ার এই পরিণতি ক্ষমতার অসারতা এবং দুনিয়াবি মোহের এক বড় শিক্ষা। যে মানুষটি এক সময় পুরো দেশ শাসন করেছেন, আজ তার কবরের মাটিটুকুও যেন পরবাসী। ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের স্মৃতি রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
ফোন : 01715248243, 01577581026, ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com