চিফ রিপোর্টার | আজিজুল হক
যান্ত্রিক এই নগরে যখন মানুষের মন কোলাহলে ক্লান্ত, তখন কিছু কণ্ঠ প্রশান্তির বার্তা নিয়ে আসে। ঠিক যেন ভোরের স্নিগ্ধ বাতাসের মতো, যা হৃদয়ের গহীনে পৌঁছে দেয় আধ্যাত্মিকতার স্পর্শ। বাংলাদেশের ইসলামী সংগীতের আকাশে বর্তমান সময়ে এমনই এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম—আবু উবায়দা। কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর এই তরুণ তুর্কি তার মায়াবী কণ্ঠ আর সাবলীল গায়কী দিয়ে কেবল শ্রোতাদের বিনোদিতই করছেন না, বরং গড়ে তুলেছেন সুস্থ সংস্কৃতির এক বিশাল সাম্রাজ্য।
ডিজিটাল যুগে অভাবনীয় সাফল্য
আবু উবায়দার সাফল্যের গ্রাফ বা সূচক বুঝতে হলে চোখ রাখতে হবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর দিকে। ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তার গাওয়া নাশিদগুলো মুক্তির পরপরই লুফে নেয় শ্রোতারা। ‘হলি টিউন’ বা তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্মগুলোতে তার গাওয়া নাশিদগুলোর ভিউ সংখ্যা কোটির ঘর স্পর্শ করেছে। কোনো বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ছাড়াই কেবল কণ্ঠের জাদুতে যে ইউটিউব ট্রেন্ডিং-এর শীর্ষে থাকা যায়, আবু উবায়দা তার অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার কণ্ঠে ‘মদিনার পথ’, ‘হৃদয় মাঝে’ কিংবা ‘মালিক’-এর মতো নাশিদগুলো আজ ধর্মপ্রাণ মানুষের মুখে মুখে।
জনসমুদ্রে যার সুরের দাপট
কেবল ভার্চুয়াল জগতই নয়, বাস্তবেও তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত কনসার্ট বা মাহফিলগুলোতে আবু উবায়দার নাম শুনলেই ভক্তদের ঢল নামে। হাজারো তরুণের ভিড়ে যখন তিনি মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়ান, তখন পিনপতন নীরবতায় সবাই তার সুরের মূর্ছনায় হারিয়ে যান। দর্শক-শ্রোতাদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই প্রমাণ করে, তিনি কেবল একজন শিল্পী নন, বরং তারুণ্যের এক আবেগের নাম।
সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে
আবু উবায়দার এই জয়যাত্রা এখন আর দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে তিনি এখন এক পরিচিত নাম। তার গায়কীতে যে পরিপক্বতা ও গভীরতা রয়েছে, তা তাকে আন্তর্জাতিক মানের শিল্পীদের কাতারে নিয়ে গেছে। বোদ্ধারা মনে করেন, তারুণ্যের এই আইকন যদি তার এই রূহানি সাধনা ও পরিশ্রম অব্যাহত রাখেন, তবে বাংলা নাশিদ জগতকে তিনি বিশ্বদরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।
উপসংহার
একজন শিল্পী তখন সার্থক হন, যখন তার সৃষ্টি মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং কোটি মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে। আবু উবায়দা সেই পথেই হাঁটছেন বীরদর্পে। তার সুরের এই সফর আরও দীর্ঘ হোক, তার কণ্ঠের জাদুতে আলোকিত হোক লাখো মানুষের হৃদয়—এটাই ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রত্যাশা।