(বাগেরহাট) মোল্লাহাট প্রতিনিধি: সজিব মোড়ল
সুস্থ থাকা কেবল ভাগ্যের বিষয় নয়, বরং এটি আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস এবং বিজ্ঞানের সঠিক প্রয়োগের সমন্বয়। বিজ্ঞানসম্মতভাবে জীবনযাপন করলে দীর্ঘকাল রোগমুক্ত থাকা সম্ভব।
দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যের সাতটি মূল বিজ্ঞান নিচে আলোচনা করা হলো:
১. পুষ্টিবিজ্ঞান (The Science of Nutrition)
আমরা যা খাই, তার সরাসরি প্রভাব আমাদের কোষে পড়ে। শরীরকে সচল রাখতে সুষম খাদ্যের বিকল্প নেই।
শর্করা, প্রোটিন ও ফ্যাট: নির্দিষ্ট অনুপাতে গ্রহণ করা জরুরি।
মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস: ভিটামিন ও মিনারেল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
পরামর্শ: প্রসেসড ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন করে প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণে গুরুত্ব দিন।
২. সার্কাডিয়ান রিদম বা ঘুমের বিজ্ঞান (Circadian Rhythm)
আমাদের শরীরে একটি প্রাকৃতিক ঘড়ি আছে যা দিন ও রাতের সাথে তাল মিলিয়ে চলে।
মেলাটোনিন: অন্ধকারে এই হরমোনটি নিঃসৃত হয় যা আমাদের গভীর ঘুমে সাহায্য করে।
প্রভাব: দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা সঠিক সময়ে ঘুমালে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং হরমোন ভারসাম্য ঠিক থাকে।
৩. হাইড্রেশন বা পানির বিজ্ঞান (The Science of Hydration)
মানুষের শরীরের প্রায় ৬০-৭০% পানি। কোষের বর্জ্য বের করতে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে পানি অপরিহার্য।
মেটাবলিজম: পর্যাপ্ত পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য: শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখতে পানির ভূমিকা অপরিসীম।
৪. মেটাবলিজম ও ব্যায়ামের বিজ্ঞান (Exercise Physiology)
শারীরিক পরিশ্রম কেবল ওজন কমায় না, এটি শরীরের ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি বাড়ায়।
এন্ডোরফিন: ব্যায়ামের সময় মস্তিষ্ক থেকে ‘ফিল গুড’ হরমোন নিঃসৃত হয় যা মানসিক চাপ কমায়।
পরামর্শ: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ব্যায়াম করা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
৫. মানসিক স্বাস্থ্যের নিউরোসায়েন্স (Neuroscience of Mental Health)
মন এবং শরীর একে অপরের পরিপূরক। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরকে শারীরিকভাবে অসুস্থ করে তুলতে পারে।
কর্টিসল: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার ফলে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায় যা শরীরের প্রদাহ (Inflammation) বৃদ্ধি করে।
সমাধান: মেডিটেশন বা গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে।
৬. অণুজীব বা মাইক্রোবায়োম বিজ্ঞান (Gut Microbiome)
আমাদের পাকস্থলীতে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ভালো ব্যাকটেরিয়া থাকে, যাদের বলা হয় ‘গাট মাইক্রোবায়োম’।
দ্বিতীয় মস্তিষ্ক: পাকস্থলীকে শরীরের দ্বিতীয় মস্তিষ্ক বলা হয়। সুস্থ অন্ত্র ভালো মেজাজ এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার চাবিকাঠি।
পরামর্শ: দই বা প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার পেটের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য ঠিক রাখে।
৭. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও রোগতত্ত্ব (Hygiene & Epidemiology)
জীবাণুর সংক্রমণ রোধে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বিজ্ঞানের একটি বড় অংশ।
প্রতিরোধ: নিয়মিত হাত ধোয়া এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা ভাইরাসের বিস্তার রোধের সবচেয়ে সস্তা ও কার্যকর উপায়।
ত্বকের যত্ন: ত্বকের প্রাকৃতিক পিএইচ (pH) ভারসাম্য রক্ষা করা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে বাঁচতে সাহায্য করে।