বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি মোঃ রাকিবুল ইসলাম
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা বাগেরহাট আজ দেশের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। এই জেলার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ক্ষেত্র হলো চিংড়ি শিল্প, যা স্থানীয়ভাবে ‘সাদা সোনা’ নামে পরিচিত। প্রাকৃতিক পরিবেশ, নদ-নদী ও লবণাক্ত পানির সহজলভ্যতার কারণে বাগেরহাট দীর্ঘদিন ধরে চিংড়ি উৎপাদনের জন্য একটি আদর্শ জেলা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
বাগেরহাট সদর, ফকিরহাট, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, কচুয়া ও রামপাল উপজেলাজুড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য চিংড়ি ঘের। এসব ঘেরে মূলত গলদা ও বাগদা চিংড়ি চাষ করা হয়, যা দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিবছর এই জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ চিংড়ি উৎপাদন হওয়ায় বাগেরহাট দেশের চিংড়ি শিল্পে একটি শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
বাগেরহাটের চিংড়ি রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এ জেলার চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। হিমায়িত মৎস্য রপ্তানিতে বাগেরহাট জেলার অবদান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই চিংড়ি শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে জেলার লাখো মানুষ। চিংড়ি চাষি, ঘের শ্রমিক, পোনা সংগ্রহকারী, পরিবহন শ্রমিক, আড়তদার এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার কর্মীরা এই শিল্পের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। চিংড়ি চাষের ফলে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক পরিবার আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
জেলায় গড়ে ওঠা আধুনিক চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলো আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে চিংড়ি সংরক্ষণ ও রপ্তানির কাজ করছে। স্বাস্থ্যসম্মত প্রক্রিয়া ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে বাগেরহাটের চিংড়ি বিশ্ববাজারে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে
তবে সম্ভাবনার এই শিল্পে নানা সমস্যাও বিদ্যমান। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, রোগবালাই, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্যের অভাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য চাষিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা, সরকারি সহায়তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা
সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, বাগেরহাটের চিংড়ি সত্যিকার অর্থেই জেলার সাদা সোনা। সঠিক পরিকল্পনা ও যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্প ভবিষ্যতেও দেশের অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বাগেরহাটকে একটি সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করতে সহায়ক হবে।