চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক ও ধর্মপ্রাণ মানুষের আস্থার কেন্দ্র পাগলা মসজিদে আবারও বিপুল পরিমাণ দান সংগ্রহ হয়েছে। আজ শনিবার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মসজিদের দানবাক্স খোলা হলে ১৩টি দানবাক্স থেকে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। বিপুল এই দানপ্রাপ্তির খবরে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পাগলা মসজিদ।
শনিবার সকাল থেকে দানবাক্স খোলার কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুরো কার্যক্রমটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করা হয়।
কেন উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ?
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাগলা মসজিদের দানবাক্সে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হওয়ায় স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই জেলা প্রশাসক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন।
এছাড়া পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসকের ভূমিকা থাকায় দানবাক্স খোলা, অর্থ গণনা ও সংরক্ষণের প্রক্রিয়ায় তাঁর উপস্থিতি একটি নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান,
“এত বিপুল পরিমাণ অর্থ গণনা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অভিযোগ এড়াতে আমরা পুরো প্রক্রিয়ায় তত্ত্বাবধান করছি।”
দানকৃত অর্থের ব্যবহার
মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানায়, দেশ-বিদেশ থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নিয়মিত পাগলা মসজিদে দান করে থাকেন। নগদ অর্থ ছাড়াও বিভিন্ন সময় স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী দান করা হয়। দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ মসজিদের উন্নয়ন, এতিম ও অসহায় মানুষের সহায়তা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।
স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মতে, পাগলা মসজিদের প্রতি মানুষের অগাধ বিশ্বাস ও দানপ্রবণতা দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রতিবার দানবাক্স খোলার সময় এমন বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়া মানুষের মধ্যে বিস্ময় ও আগ্রহ সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য, পাগলা মসজিদ দীর্ঘদিন ধরেই বিপুল দান সংগ্রহের জন্য পরিচিত। এর আগেও একাধিকবার দানবাক্স খুলে কোটি কোটি টাকা পাওয়ার খবর জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল