সিনিয়র রিপোর্টার ফজলে করিম মোঃ নাজমুজ্জামান
কিশোরগঞ্জ: উত্তরের হিমেল হাওয়ায় দোল খাচ্ছে কিশোরগঞ্জের দিগন্তজোড়া সরিষার মাঠ। যেদিকে চোখ যায়, কেবল হলুদের সমারোহ। সোনালি রঙের ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠের পর মাঠ, যেন প্রকৃতি তার বুকে বিছিয়ে দিয়েছে এক বিশাল হলুদের গালিচা। সরিষার এমন চমৎকার আবাদে এবার কিশোরগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ফলনে সোনালি স্বপ্ন: কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এবার কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। ভোজ্যতেলের দাম বাড়তে থাকায় এবং সরকারি প্রণোদনা পাওয়ায় কৃষকরা বোরো আবাদের আগে মধ্যবর্তী ফসল হিসেবে সরিষা চাষে বেশি ঝুঁকেছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠে মাঠে মৌমাছির গুঞ্জন আর সরিষার মনমাতানো সুবাস। উপযুক্ত আবহাওয়া আর কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শে এবার ফলন নিয়ে বেশ আশাবাদী স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষকের মুখে হাসি: স্থানীয় এক চাষি জানান, “ধান আবাদের চেয়ে সরিষায় খরচ ও খাটুনি দুটোই কম। সরিষা কাটার পরই আমরা বোরো ধান লাগাতে পারি, এতে জমির উর্বরতাও বাড়ে। এবার এখন পর্যন্ত কোনো রোগবালাই নেই, সব ঠিক থাকলে ঘরে ফসল তোলার অপেক্ষায় আছি।”
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা: কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরিষার এই বাম্পার ফলন স্থানীয় তেলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কৃষকদের বাড়তি আয়ের পথ সুগম করবে। সরিষার মাঠ ঘিরে অনেক জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহের বাক্সও বসানো হয়েছে, যা কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।